লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনের লকডাউন ছিল ঢিলেঢালা। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশি। বিভিন্ন কাজে বের হওয়া মানুষের প্রধান বাহন হিসেবে ছিলো রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি। তবে লকডাউন কার্যকরে পুলিশের তৎপরতা ছিল পূর্বের চেয়ে বেশি। তবে যথাযথ কারণ দেখাতে না পারায় জরিমানা গুণতে হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। এছাড়া ব্যাংক ও কাচাঁবাজারগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। ইফতারের বাজারেও গতদিনের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশি। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা যায়, সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও নগরীর গুরত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট। সব রকমের যানবাহনগুলোতে নিয়ম মেনেই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় কয়েকটি যানবাহনকে আটক করে জরিমানাও করতে দেখা যায়। তবে কয়েকজন রিকশাচালকের অভিযোগ ছিল, অন্যান্য যানবাহন বিনা বাধায় চলাচল করলেও তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক হৃদয় বলেন, ‘সকাল থেকে দুইশ’ টাকা ইনকাম করতে পারি নাই এখন রিকশা আটকাইয়া কইতাছে পনেরশ’ টাকা দিতে, নাইলে গাড়ি ছাড়বো না। এখন কইত্তে পাই এই টাকা। চুরি, ডাকাতি তো করতাছি না কামাই কইরা খাইতাছি এরমধ্যেও কন এতো সমস্যা! হেরা শুধু আমগোই দেহে আরো তো গাড়ি চলতাছে হেগো কথা হুইন্নাই ছাইড়া দিতাছে। আমরা সবাই কত্ত কইরা কইলাম স্যার ছাইড়া দেন এদিকে আর আমু না হুনলো না কথা, টাইন্না বাইর কইরা দিলো। এমন যদি অবস্থা হয় কেমনে চলমু আমরা? আমগোও তো ঘর সংসার আছে। মাসটা শেষ হইলে বাড়ি ভাড়া আরও কত খরচ আছে।’
তবে এ বিষয় মানতে নারাজ দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক কর্মকর্তারা। তারা জানান, প্রতিটি যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যারা অহেতুক কারণে বের হয়েছে তাদেরকে জরিমানা করে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া বিভিন্ন জরুরি সেবার গাড়িগুলোকে আমরা প্রবেশ করতে দিচ্ছি। আর যে রিক্সাগুলো রাস্তার পাশে দাড়িয়েছিল সে রিকশাগুলোকে আমরা কিছুক্ষন আটক করে রেখে তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছি। কিছু কিছু রিকশা, সিএনজি ও ইজিবাইকগুলোকে আমরা ট্রাফিক আইনানুসারে জরিমানা করেছি এবং বাকিগুলোকে ছেড়ে দিয়েছি।

Please follow and like us: