সরেজমিন নারায়ণগঞ্জ: লকডাউন কার্যকরে তৎপর পুলিশ-প্রশাসন

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: সারাদেশে ঘোষিত সর্বত্মক লকডাউন কার্যকর করতে নারায়ণগঞ্জে বেশ তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। টহল দিচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। জেলা প্রশাসনের কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও কাজ করছেন সড়কে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলছেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত অযথা যারা ঘর থেকে বের হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়াসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় সড়কে যান চলাচল নেই বললেই চলে। মানুষের উপস্থিতিও ছিল একেবারেই সীমিত। কয়েকটি রিকশা, ইজিবাইক চলাচল করতে দেখা গেলেও বাস, লেগুনাসহ অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কে চলছে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান।
শহরের চাষাঢ়া চত্বরে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এরকম ত্রিশের অধিক চেকপোস্ট জেলার কয়েকটি স্থানে বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসপি। চেকপোস্টে যানবাহন থামিয়ে সড়কে বের হওয়ার কারণ এবং মুভমেন্ট পাস আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। জরুরি প্রয়োজন রয়েছে পুলিশ এমন বিষয়ে আশ্বস্ত হলে পরে যেতে দিচ্ছেন। অন্যথায় একই পথে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) কামরুল বেগ বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে পুলিশ লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে। বেলা ১১টার দিকে চাষাঢ়ায় সড়কের উপর ট্রেনের বগি রেখে যান চলাচল বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পর আবার সড়কের একটি পাশ খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে লকডাউন অমান্য করে সড়কে বের হওয়াতে বেলা ১১টা পর্যন্ত অন্তত বিশটি ইজিবাইক ও রিকশা আটক করে পুলিশ। চালকরা বলছেন, জীবিকার তাগিদে তারা সড়কে বের হয়েছিলেন। গত সাতদিনও লকডাউন ছিল। তখন এতটা কড়াকড়ি ছিল না। এবারের লকডাউনও ঢিলেঢালা হবে ধারণা করেই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। চালকদের অনেকেই উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, তাদের ছেড়ে দিলে গাড়ি গ্যারেজ করে ফেলবেন, লকডাউন অমান্য করে সড়কে নামবেন না। পরে আশ্বস্ত হয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, আর সড়কে গাড়ি নিয়ে বের হবেন না এমন অঙ্গীকারনামা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সর্বাত্মক লকডাউন মানাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রশাসন। তবে কোনো কারণ ছাড়াই গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন অনেকে। লকডাউন নিয়ে তাদের উদাসীনতা দেখা গেছে। সারাদেশে লকডাউন ঘোষিত হলেও তা অমান্য করে বের হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ৮০ প্রাইভেট কার আটক করা হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব যানবাহন আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেখানে দায়িত্বরত সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রেজা মাসুম প্রধান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণের বিস্তার রোধে আজ (বুধবার) থেকে ৮ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে ভোর ৬টায় শিমরাইল মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে অবস্থান নিই। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চলাচলও বাড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাইভেটকার। প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি প্রাইভেটকার আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জরিমানা করে যদি এসব গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়; তাহলে প্রকৃতপক্ষে লকডাউন বাস্তবায়ন হবে না। আপাতত তাদের ছাড়া হচ্ছে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহর এলাকায় মানুষের আনাগোনা কম ও দোকানপাট সব বন্ধ থাকলেও শহরতলী ও পাড়া-মহল্লার চিত্র ভিন্ন। গত বছরের লকডাউনের মত একই চিত্র দেখা গেছে এসব এলাকাগুলোতে। পাড়া-মহল্লাগুলোতে অবাধে ঘর থেকে বের হচ্ছেন মানুষ। রমজানের প্রথম দিন হওয়াতে সকালে বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে দোকানপাটও অধিকাংশ খোলা রাখতে দেখা গেছে। এদিকে কাঁচাবাজারগুলোতেও রয়েছে ব্যাপক জনসমাগম। শহরের প্রধান কাঁচাবাজার দিগুবাবুর বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম দেখা গেছে। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। তবে অনেকেই রমজানের জন্য বাজার করতে এসেছেন বলে অজুহাত দিয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, লকডাউন কার্যকর করার জন্যে জেলায় ত্রিশের অধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দূরপাল্লার বাস থেকে জেলায় প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজরদারি রয়েছে। শুধুমাত্র কলকারখানা এবং জরুরি যেসব পরিষেবা রয়েছে সেসব চালু থাকবে। পাড়া-মহল্লায় লকডাউন কার্যকরে মাইকিং করা রয়েছে। পুলিশের মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। সুর্নিদিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকেই চলাচলের জন্যে অনুমতি দিচ্ছি না।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করতে সরকারের ১৩ দফা বিধিনিষেধে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদি কেনা, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার এবং টিকা কার্ড নিয়ে টিকার জন্য যাওয়া) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

Please follow and like us: