হেফাজতের সহিংসতায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে: মাহবুব উল আলম হানিফ

রুদ্রবার্তা রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মী সহিংসতায় জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সরকার ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রত্যেক জেলায় ও উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কঠোরভাবে দমন করতে প্রশাসন সহয়তা করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত শিবির হোক আর হেফাজত বা বিএনপিই হোক জনগনকে সঙ্গে নিয়ে অপশক্তিকে রোধ করা হবে। হেফাজত ইসলামের এমন তান্ডব অরাজকতা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, ধর্মের নামে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ বরদাশত করা হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ধর্মের নামে তান্ডব চালায় তাদের আঘাতের পাল্টা আঘাত করা হবে। এজন্য দলীয়  নেতাকর্মীদের প্রস্তত থাকতে বলেছেন তিনি।
কোন অনৈতিক সহিংসতা সরকার বরদাশত করবে না।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভাংচুর হওয়া আওয়ামীলীগের কার্যালয় ও যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মদিনা টাওয়ারে একটি রেস্তরায় সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, মামুনুল হকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা আওয়ামীলীগের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ভাংচুর চালিয়েছে তারা রেহাই পাবে না। হামলাকারীদের তালিকা করার জন্য তিনি দলীয়  নেতাকর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, যারা ধর্মের নামে অরাজকতা করে তাদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করছে। এসব ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। হেফাজতের ধর্ম ব্যবসায়ীদের দ্বারা যারা হামলার শিকার হয়েছেন তারা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করুন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কুষ্টিয়ায় যারা বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যে হামলা করেছিল তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী, দেশবিরোধী। যারা বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি তারাই এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই মূহুর্তে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দেশকে তালেবানী, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের দেশ বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশ বিরোধীরা পুলিশ বাহিনীকেও টার্গেট করেছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে কোনভাবেই অপশক্তির হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা ঐক্যবন্ধভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এদের শিকর উদপাটন করতে হবে। সময় এসেছে এসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের মূল উদপাটনের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচারের আওতায় আনার। কঠোর বিচারের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি তরাণি¦ত করতে হবে।

গত শনিবার সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক স্ত্রীসহ লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ থাকার খবরে হেফাজত কর্মীরা তাকে উদ্ধারে সোনারগাঁ আওয়ামী কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রয়্যাল রিসোর্টে ভাংচুর চালায়। এরই প্রেক্ষিতে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে সোনারগাঁ পরিদর্শনে আসেন।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়াা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়ক বিষয়ক সম্পাদক ও শ্রম আদালত ঢাকা-৩ এর সদস্য ফিরোজ হোসাইন, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ- সম্পাদক এএইচ এম মাসুদ দুলাল প্রমুখ।

Please follow and like us: