ঘুরিয়ে ধর্ষণের হুমকি! কৌশানীর উপর ক্ষুব্ধ শ্রীলেখা

বিনোদন ডেস্ক: সকাল থেকেই উত্তপ্ত শনিবারের রাজ্য রাজনীতি। সৌজন্যে শাসকদলের প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের একটি ভিডিও। যেখানে বিজেপিকে ‘বাবা’ বলে তিনি কটূক্তি করেছেন। প্রচারে গিয়ে হুমকি দিয়েছেন জনগণকে, ‘ঘরে সবার কিন্তু মা-বোন আছে, ভোটটা ভেবে দিবি।’

শাসকদলের প্রার্থীর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বাম সমর্থক শ্রীলেখা মিত্র, বিজেপি কর্মী রূপা ভট্টাচার্যসহ বহু মানুষ। শ্রীলেখার কথায়, এখনি কৌশানীর প্রার্থী পদ বাজেয়াপ্ত করা উচিত। আর তারকা-প্রার্থীকে ‘ভদ্র’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রূপা।

নেট মাধ্যমে কৌশানীর মন্তব্যকে শাসকদলের ‘উন্নয়নের ভাষা’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। ওই ভিডিও আরও একবার পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এই সাংঘাতিক হুমকিতে আমি বিস্মিত, হতবাক!’ অভিনেত্রীর দাবি, অবশ্যই কৃষ্ণনগর (উত্তর)-এর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানো উচিত।
ক্ষুব্ধ শ্রীলেখার প্রথম কথা, ‘‘কৃষ্ণনগরে একইভাবে প্রয়াত অভিনেতা-বিধায়ক তাপস পাল হুমকি দিয়েছিলেন ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব’ বলে। সেই কথার সুর কৌশানীর গলাতেও।’’ একই সঙ্গে জানালেন তিনি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। তার দাবি, কৌশানী ঘুরিয়ে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন। এখনো ক্ষমতাতেই আসেননি। তার আগেই এই! এলে কী করবেন? দলমত নির্বিশেষে এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

এদিকে কৌশানীর মন্তব্য বিজেপির হাতে নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠে এসেছে। একের পর এক কটাক্ষ, মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেট মাধ্যম। মুখ খুলেছেন বিজেপি কর্মী রূপা ভট্টাচার্যও। তিনি সরাসরি শাসকদলের প্রার্থীকে ‘ভদ্র মহিলা’ হয়ে ওঠার কথা বলেছেন! নেট মাধ্যমে সরব রূপার দাবি, ‘কৌশানি আপনি মূলত একজন অভিনেত্রী। তাই আপনার মধ্যে একজন পরিশীলিত মানুষ (শিল্পী হয়ে উঠতে না পারলেও) থাকা উচিত। অন্তত আমি সেটাই দাবি করি।’

আক্রমণাত্মক প্রশ্নও ছুঁড়েছেন, ‘এই কুৎসিত হুমকি দেওয়া আপনার মুখে মানায়? যদি মনে করেন এটা করে আপনি তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের কাছের হবেন, তাহলে জানবেন তারাও আপনার এই দ্বিচারিতাকে মনে মনে ঘৃণা করেন।’ তার পরেই পরামর্শ, ‘নেত্রী হওয়া বাদ দিন, আগে তো ভদ্র মহিলা হন!’

ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক মহল্লা সরগরম হতেই নেট মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন কৌশানী। ক্ষমা চেয়ে তার প্রকৃত বক্তব্য জানাতেও ভোলেননি। তারকা-প্রার্থীর দাবি, তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন। উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, দিল্লিতে বিকেল ৩টার পরেই মা-বোনেরা আর সুরক্ষিত নন। সে কথা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন সবাইকে।

পাশাপাশি বাংলা ‘দিদি’র ছায়ায় এখনও সুরক্ষিত, সেটাও বোঝাতে চেয়েছেন। তার অভিযোগ, এই ভিডিও একাংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকৃত করা হয়েছে তার কথা। যদিও ততক্ষণে পানি অনেক দূর গড়িয়ে গিয়েছে।

Please follow and like us: