বীমাসেবায় গ্রাহককে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার: গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বীমা কোম্পানিগুলোকে সেবা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় বীমা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শেখ হাসিনা বলেন, বীমা মূলত একটি সেবামূলক পেশা। এ সেবাকে জনপ্রিয় করাসহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বীমা কোম্পানিগুলোকে বীমাসেবা প্রদান করতে হবে। বীমা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি এড়াতে এ খাতের সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আমাদের দেশের মানুষের কিছু অভ্যাস আছে।
তারা ব্যবসা করতে গিয়ে বীমা হয়তো করছে, কিন্তু অনেক সময় কোনো ক্ষতি না হলেও নিজেরা, আমি বলবো যে, আর্টিফিশিয়ালি কিছু ক্ষতি করে বা কোথাও একটু আগুন লাগালো বা কোথাও একটা ঘটনা ঘটালো, এভাবে একটা মোটা অঙ্কের বীমার প্রিমিয়াম থেকে টাকা চায়। কিন্তু খোঁজ করে দেখা যায়- যে পরিমাণ অর্থ সে দাবি করছে, সেই পরিমাণ খরচ হয়নি। যারা পরীক্ষা করতে যাবে, তাদেরকেও আপনাদের ভালোভাবে শিক্ষা দিতে হবে। তারা যেন আবার অন্য কোনোভাবে ওই অল্প ক্ষতিকে বড় ক্ষতি হিসেবে না দেখায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরকম কয়েকটি ঘটনা তিনি ‘হাতেনাতে ধরতে’ পেরেছেন, সে কারণেই বিষয়টি অনুষ্ঠানে বললেন।
কাজেই এখানে যে দুর্নীতিটা এটাও… এখন অনেক কমে গেছে, বন্ধও হয়ে গেছে। কিন্তু আরো সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। সেই বিষয়টা আপনারা খেয়াল রাখবেন বলে আমি আশা করি। কারণ একটা মানুষের সেবা দেয়া, আর মানুষ একটা আমানত রাখছে। কিন্তু সেটাকে আবার অন্যভাবে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, এবারের বীমা দিবসে যে প্রতিপাদ্য নেয়া হয়েছে সেটা হলে ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার’। এই প্রতিপাদ্যটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি এবং সেজন্য সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

কারণ আমাদের অর্থনীতি যত বেশি শক্তিশালী হবে, বিস্তৃত হবে, মানুষ সচেতন হবে, বীমার গুরুত্বটাও কিন্তু ততটা বাড়বে। এই বীমা থেকে যে সুফলটা পেতে পারে মানুষ, এ সম্পর্কে আমাদের সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমি আশা করি যে, আপনারা যারা বীমার সঙ্গে জড়িত, তারা উদ্যোগ নেবেন মানুষের মাঝে সচেতনতাটা বৃদ্ধি করতে।

বীমা নিয়ে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মানসিকতা আছে কিছুটা, সেটা হলে অনেকেই বীমার যে প্রিমিয়ামটা দিতে হয়, ওইটুকু টাকা দিতে হয়, সেটা খরচ করতে চান না। পরে যখন দুর্ঘটনায় পড়েন, তখন এর গুরুত্বটা বোঝেন।
বীমা থাকলে যে মানুষ দুঃসময়ে সুবিধা পায়, সে বিষয়টি তুলে ধরে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দেন সরকার প্রধান।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বীমা খাত হচ্ছে অর্থনীতির আয়না। এ খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সবাইকে বীমার আওতায় আনতে কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম কমাতে হবে। মানুষের সক্ষমতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে বীমা খাত অনেক এগিয়েছে। কিন্তু এ খাতে যে পরিমাণ সম্পদ ও সক্ষমতা রয়েছে, সেভাবে এগোতে পারেনি। বীমাপণ্য বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি যেসব খাতে এখনো বীমার কার্যক্রম শুরু হয়নি সেখানে কাজ করতে হবে। আমরা সরকারি সব সম্পদ বীমার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে ১২ লাখ বীমা পরিবার রয়েছে। এ খাতে আস্থা বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছরে বীমা খাতের প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ১২৬.৬০ শতাংশ। বীমা দাবি পরিশোধের হার বেড়েছে ৫৩ শতাংশ আর গ্রাহক বেড়েছে ৫১ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বীমা খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বীমা ব্যক্তিত্ব এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা এবং শিক্ষার্থীদের হাতে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা পলিসির সনদ তুলে দেন।

Please follow and like us: