ফতুল্লায় লাশ উদ্ধারের ৫৮ দিন পর হত্যা মামলা, আসামী ১১

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: ফতুল্লার দাপায় নিহত ট্রাক চালক ইয়াকুবের লাশ উদ্ধারের ৫৮ দিনের মাথায় অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করলো ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (১ মার্চ) রাতে নিহতের স্ত্রী জরিনা বেগম বাদী হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামী করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এর আগে রবিবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে হত্যা করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে দাপা ও আলীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ফতুল্লা থানার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার হাজী শফিউল্লার ভাড়াটিয়া মৃত ওসমান গনির পুত্র হোসেন সর্দার (৫০),আলীগঞ্জ পূর্বপাড়া মসজিদ গলির মৃত রশিদ মিয়ার পুত্র মনির হোসেন(৪০) ও দাপা ইদ্রাকপুরের মৃত জসিম মিয়ার পুত্র বিলাল(৪০)। গ্রেফতারকৃতদেরকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার রাত আটটার দিকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

উল্লেখ্য যে, ২৯ ডিসেম্বর ফতুল্লা থেকে নিখোঁজ হয় ট্রাক চালক ইয়াকুব। নিখোঁজের পরদিন ট্রাক চালক ইয়াকুবের চাচা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ২ তারিখ রাতে ফতুল্লার আলীগঞ্জস্থ জামান মিয়ার ঘাট সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী স্থান থেকে ট্রাক চালক ইয়াকুবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।লাশ উদ্ধারের পর পর নিহতের স্বজনেরা হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ হত্যা মামলা গ্রহন না করে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে গ্রহন করে।শুরু থেকে নিহত ট্রাক চালক ইয়াকুবের স্বজনেরা হত্যা করার বিষয়টি বলে আসলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি।

পরে এনিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের উপরি মহলের নির্দেশে নড়েচড়ে বসে তরিগড়ি করে হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে এসে রবিবার গ্রেফতার করে তিনজনকে। গ্রেফতারের পরপর তিনজনকে ছাড়িয়ে নিতে চলে আসে দাপার বহু অপকর্মের হোতা টিক্কা।

এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের দেখে সটকে পরে টিক্কা। সোমবার রাতে নিহত ইয়াকুবের স্ত্রী বাদী হয়ে ট্রাক মালিক ইব্রাহিম,হোসেন সর্দার, আলু কামাল, মাডা সেন্টু, মনির, রহমান, তুহিন বাবু, ইকবাল ও বিল্লালের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাত তিনজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

Please follow and like us: