বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াবে এবং সেই অনুযায়ী সরকার সব ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভের অর্জনকে জানাতে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হওয়ার পর চ‌্যালেঞ্জ ও জনগণের কর্তব‌্য বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ক্ষেত্রটি তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি, সব প্রস্তুত করে দিচ্ছি। নতুন প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশ… তারা করবে।’

“তার জন‌্য ২০৪১ পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে দিয়েছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান করে দিয়েছি। এর ভিত্তিকে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হবে। সময়ের সাথে এই জিনিসগুলো পরিবর্তন হবে এবং সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে নিশ্চয় দেশ এগিয়ে যাবে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, ‘সময়ে আগেই আমরা এই অর্জন করবো কারণ প্রতিটি এলাকা হিসেব করে আমরা কাজ কর্যোচ্ছি। কোনো অঞ্চলের মানুষ যাতে অবহেলিত না থাকে। এটা উন্নত দেশ হবে কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
৩ কোটি ডোজ টিকা আসছে
আরও তিন কোটি ডোজ কেনার জন‌্য সরকার উদ‌্যোগে নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছি। কেউ এই টিকা নেওয়া থেকে বাদ না যায়। কোনো দেশ যদি উৎপাদন করতে না পারে আমাদের দেশ উৎপাদন করতে পারে। আমার সেই বিষয়ে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কারা এটা উৎপাদন করতে পারে।’

করোনা মেকাবিলায় সরকারের সাফল‌্য
করোনা মেকাবিলায় সরকারের সাফল‌্য কি ম‌্যাজিক তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী সব কৃতিত্ব দিলেন দেশের জনগণকে। তিনি বলেন, জনগণের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এতে কোনো ম‌্যাজিক নেই।

“ম‌্যাজিকের কিছু না। সব দেশ, সবাই আসলে ঘাবড়েই গিয়েছিল। এদেশের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে, আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি তারা সেটি অর্থাৎ স্বাস্থ‌্য সুরক্ষা মেনে চলেছে। বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেশের মানুষের যাতে কোনো কষ্ট না হয় সেজন‌্য বিশেষ পদক্ষেপ ছিল। আমরা আগাম অর্থ দিয়ে করোনার টিকা কেনার ব্যবস্থা নিয়েছি তখন টিকা গবেষণার পর্যায়ে ছিল।”

এ সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, সামরিক-বেসামরিক বাহিনী, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের কৃতিত্ব দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহযোগিতা করেছে, ত্রাণ পৌছে দিয়েছে। এই যে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি এটি ম‌্যাজিক। এটা বাংলাদেশের মানুষের ম‌্যাজিক। এটা আন্তারিকতা, দায়িত্ববোধ।

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চ‌্যালেঞ্জ
আগামী ৫ বছর দেশকে অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চ‌্যালেঞ্জ জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ এর মধ‌্যে সেটা যাতে আমরা ধরে রাখতে পারি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে চ‌্যালেঞ্জগুলো আছে, সেটি কিন্তু আমরা এখন থেকে নিয়েছি। এজন‌্য যা যা করণীয় তা করতে আমরা প্রস্তুত।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আমরা স্থান দিয়েছি। আমাদের একাত্তরে কথা চিন্তা করে তাদের জায়গা দিয়েছি। শুধু তাই নয়, থাকার সুন্দর জায়গা করে দিয়েছি। শুধু রোহিঙ্গাদের নয় আমরা আমাদের গৃহহীন মানুষের জন‌্য ঘর করে দিয়েছি। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না।

প্রসঙ্গ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ যখন গড়ে তুলেছি তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও দরকার। কেউ যাতে অসামাজিক কাজ যুক্ত না হয়, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত না থাকে। এমন কোনো কাজ না হয় যা দেশ ও জনগণের জন‌্য ক্ষতির কারণ হয়। এজন‌্য ডিজিটাল নিারপত্তা দেওয়া একান্ত দায়িত্ব। সমালোচনা যারা করছেন তারা করবেনই। তারা কি বাস্তবতা চিন্তা করছে?

আল জাজিরা নিয়ে যা বললেন
আলজাজিরা প্রতিবেদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এ নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। একটি চ‌্যানেল কি করছে তা দেশের মানুষে বিচার করবে তারা কি উদ্দেশ‌্য তা করছে। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। যে খুনিরা শুধু রাষ্ট্রপতি না, ছোট শিশুকে পর্যন্ত হত‌্যা করেছে; তাদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে সংসদে বসানো হয়েছে বিদেশি চাকরি দেওয়া হয়েছে। যারা এটি করেছে তাদের সম্পর্কে আপনাদের কি ধারণা?

বঙ্গবন্ধুর হত‌্যাকারীদের, যুদ্ধপরাধীদের, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের এবং সব ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যাদের বিচার হয়েছে কাদের দোসররা কি বসে থাকবে? তাদেরও তো ইন্ধন আছে। সরকার হিসেবে আমরা দেশের জন‌্য যেভাবে কাজ করেছি..১২ বছরের মধ‌্যে..২০০১ সালে থেকে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে কি পরিস্থিতি ছিল? এই রকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ‌্যে আমরা সরকার গঠনের পর কয়েকটি ঘটনা ঘটানো হলো। সেগুলো সামাল দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কি সহজ কাজ? তারপরও আমরা করেছি। এখন বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা ধরে রাখতে হবে।

টিকা এত দ্রুত কিভাবে আনা সম্ভব হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, টিকা নিয়ে তখনও গবেষণা চলছিলো। অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছিলাম যাতে আমরা দ্রুত পাই।

স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলতে চাই। আমরা গ্রাম পর্যায়ে পর্যন্ত প্রচার চালাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন।

Please follow and like us: