বিলুপ্ত হচ্ছে থানা-ওয়ার্ড কমিটি, সম্মেলন মার্চে

নবদ্বীপ নিউজ: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা আজ বুধবার। রাজধানীর গুলিস্তানের একটি হোটেলে বেলা ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মহানগর দক্ষিণের অন্তর্ভুক্ত সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলনের দিন নির্ধারণের কথা রয়েছে। আগামী মার্চে এই সম্মেলন হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আপাতত হচ্ছে না ইউনিট কমিটি।

বর্ধিতসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বিশেষ অতিথি থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও বিশেষ অতিথি থাকবেন সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। মহানগর দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যারা আছেন, শুধু তারাই সভায় উপস্থিত থাকবেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই মহানগরের প্রথম বর্ধিতসভা।

আসন্ন সম্মেলন ঘিরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদ পেতে আগ্রহীরা। বিগত নির্বাচনে দলের বিপক্ষে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিভিন্ন মামলার আসামিও নানাভাবে তদবির করছেন। তাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দলের সভাপতির কার্যালয়ে ভিড় করতেও দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও যাচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের পল্টন বা মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসার জন্য তদবির করছেন সোহেল, আলী রেজা খান রানাসহ বেশ কজন নেতা। সোহেল ও তার সহযোগী আলী রেজা খান রানা রাজধানীর শাজাহানপুর এলাকায় ১১ নম্বর ওয়ার্ড (পুরনো ৩৪) ছাত্রলীগের সভাপতি কাওছার হত্যার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

রানা ২০০১ সালে শান্তিনগরের সাদা হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন এমন নেতাও কমিটিতে থাকতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কদমতলী থানার ৫৯নং ওয়ার্ডে কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য খোরশেদ আলম বাবু মাস্টার ও আওলাদ হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এ ছাড়া ৫২নং ওয়ার্ডে থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুহুল আমিন এবং ৫৩নং ওয়ার্ডে থানার কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মামুন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। গত সিটি নির্বাচনে ১২৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ৭০টির বেশি ওয়ার্ডে শতাধিক এমন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী আমাদের সময়কে বলেন, মহানগরকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয়ে বর্ধিতসভা হবে। থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি করার জন্যই এই সভা। তিনি আরও বলেন, প্রেস রিলিজে আর কমিটি হবে না। কমিটি হবে সম্মেলনের মাধ্যমে। বিতর্কিতদের কমিটিতে না রাখার জন্য আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে। ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন, দলের জন্য নিবেদিতদের দিয়েই কমিটি করা হবে। বিতর্কিতরা যতই দৌড়ঝাঁপ করুক যদি তারা যোগ্য না হয় তা হলে তাদের থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না।

থানা-ওয়ার্ডে কমিটি গঠনে নগরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাও গুরুত্ব পাবেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অধীনে ২৪ থানা, ৭৫ ওয়ার্ড এবং ওয়ার্ডগুলোর অধীনে ৫-১০টি করে ইউনিট রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের অধীনে ২০ থানা, ৬৫ ওয়ার্ড ও একটি ইউনিয়ন রয়েছে। উত্তরের ওয়ার্ডগুলোর অধীনেও বেশ কয়েকটি করে ইউনিট কমিটি রয়েছে।

Please follow and like us: