হাজীগঞ্জে ঈদগাহ মাঠ দখলে চেষ্টা, মুসল্লিদের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার নিউ হাজিগঞ্জ এলাকায় ঈদগাহ মাঠে বসত বাড়ি নির্মানকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রচন্ড উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাজ বন্ধ করতে এলাকাবাসি একত্রিত হয়ে কাজে বাধা দেয়। সেই সাথে বিক্ষোভ শেষে গণস্বাক্ষর দেয়। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অভিযোগ নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদের সেক্রেটারি মো. আব্দুস সবুর মোল্লা ঈদাগাহের নির্ধারিত জায়গায় বসত বাড়ি নির্মাণ করছিলো।
হাজীগঞ্জে ঈদগাহ মাঠ দখলে চেষ্টা, মুসল্লিদের বাধা
জানা গেছে, একুশে ফেব্রুয়ারির দিন নির্মান কাজ শুরু করতে গেলে ঈদগাহের আশেপাশের লোকজন গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। বাক বিতন্ডা ও উত্তেজনার এক পর্যায়ে সাধারন মানুষ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।
দীর্ঘ শতবর্ষ পুরোনো এ মসজিদটি নাম পরিবর্তন করে নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদ নামকরন করা হয়। এ মসজিদের ৬৩ শতাংশ ভূমি মসজিদ উন্নয়নের জন্য দান করেন নবু মিস্ত্রি ও তার ৩ কন্যা। একপর্যায়ে আবাদী জমিটি হাজীগঞ্জবাসীর অনুদানে ভরাট করা হয়। যা ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি এই ঈদগাহের মাঠে প্রথম পর্যায়ে ১১ টি রুম তৈরী করে ভাড়া দেয়া হয়। ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদে বিবিধ উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। বর্তমানে ২য় পর্যায়ে আবারও কাজ করতে গেলে এই বাধার সৃষ্টি হয়।
হাজীগঞ্জে ঈদগাহ মাঠ দখলে চেষ্টা, মুসল্লিদের বাধা
এলাকাবাসির ভাষ্য, মসজিদ ও ঈদগাহের উন্নয়ণে সমস্ত ব্যয় এলাকাবাসি দিয়ে থাকে। এর আগেও উন্নয়ণের জন্য কয়েক দফা টাকা তোলা হলেও ঈদগাহের উন্নয়ণ দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর আক্ষেপের সুরে বলেন, বর্তমানে উন্নয়ণের নামে স্থাপনা নির্মান করে তা দখলের পায়তারা চলছে। ঈদগাহের জায়গায় কোনো স্থাপনা চাইনা। প্রয়োজনে ঈদগাহ উন্নয়ণ কমিটি করা হোক। এর উন্নয়ণে সমস্ত ব্যয় এলাকাবাসী ওই কমিটির মাধ্যমে বহন করবে।
নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদের সেক্রেটারি মো. আব্দুল সবুর মোল্লা বলেন, এই স্থাপনা থেকে আসা আয় মসজিদের উন্নয়ণে ব্যবহার করা হবে। আমার নানা মসজিদের জন্য ১২ শতাংশ ও মসজিদের উন্নয়নের জন্য ৬৬ শতাংশ জায়গা দিয়ে যান। বর্তমানে ওই ৬৬ শতাংশ জায়গায় এলাকাবাসী ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহার করছে। মসজিদের উন্নয়নের জন্য ওই ৬৬ শতাংশ জায়গার অর্ধেকে স্থাপনা (বসত বাড়ি) নির্মান করা হচ্ছে। পরে এলকাবাসি বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। আগামী শুক্রবার মসজিদে এ বিষয়ে এলাকাবাসিদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মসজিদের মোতায়াল্লি এহসান কাদির রুমি বলেন, এ বিষয়ে মসজিদের সেক্রেটারি মো. আব্দুস সবুর মোল্লাসহ কমিটির কেউ আমাকে আমাকে কিছু জানায়নি। এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়ে এসে বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি সবাইকে আশ^স্ত করি ঈদগাহের জায়গায় অন্য কিছু হবে না।
এলাকাবাসীর দাবী শতবছরের এই পুরোনো মসজিদটি এখনও পর্যন্ত ওয়াক্ফা কতৃক পরিচালিত না হয়ে কী কারনে ব্যক্তিগত কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ খতিয়ে দেখবেন। ওয়াক্ফা বোর্ড আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

Please follow and like us: