চসিক নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: চসিক নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী ভোটের দিন সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
গতকাল বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে চসিক নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, চসিক নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। বিপুল পরিমাণ মানুষ প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোট সংশ্লিষ্ট কাজে যারা নিয়োজিত থাকবেন তাদের সকল প্রার্থীর প্রতি সমান নজর রাখতে হবে। যাতে এটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
ইভিএম নিয়ে কেএম নূরুল হুদা বলেন, যেখানে ইভিএম থাকবে সেখানে সশস্ত্র পুলিশ থাকবে। ভেতরে ঢুকে একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ ছাড়া ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। ধীরে ধীরে মানুষ এই পদ্ধতি গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করার পরিকল্পনা করছি আমরা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ রকম কোনো ঘটনার সত্যতা আমরা পায়নি। বিএনপি প্রার্থী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই দাবি করে ইসি ও প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলে অভিযোগ করলেও সিইসি বলছেন, তিনি কোনো সমস্যাই দেখছেন না। সুন্দর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে! সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বাইরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না বলেও দায়িত্ব নিয়ে বলে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ সময় মিডিয়াকেই কেন্দ্রে ভোটার আনতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সিইসি বলেন, নির্বাচনের চেয়ে জীবন অনেক মূল্যবান। প্রতিযোগিতায় নির্বাচন শুরু হবে সহিংসতায় শেষ হবে, সংঘাত সংঘর্ষে জীবন যাবে, এটা হতে পারে না। অথচ এই নির্বাচনে এরমধ্যেই কয়েকজন নিরীহ মানুষের প্রাণ ঝরেছে। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। একটি জীবন এই নির্বাচনের চাইতে অনেক মূল্যবান।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে এম নূরুল হুদা। বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us: