মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার পুরোপুরি খুলছে বৃহস্পতিবার

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুর উদ্বোধন করবেন। এরপর পুরো ফ্লাইওভার জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
প্রকল্পের পরিচালক সুশান্ত পাল জানিয়েছেন, কয়েক ধাপে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কয়েকটি লেন চালু হয়েছে। এরই মধ্যে ফ্লাইওভারের সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরই নগরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই ফ্লাইওভার জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এতে যানজটের তীব্র যন্ত্রণা থেকে নগরবাসী যেমন রেহাই পাবেন, তেমনি যাতাযাতে সময়ও কমবে অনেক। সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, মগবাজার রেলক্রসিং, মৌচাক, শান্তিনগর, মালিবাগ এলাকার যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ফ্লাইওভারটি চালু হওয়ার পর বাংলামোটর থেকে রাজারবাগ যেতে ৫ মিনিট সময় লাগবে। ফ্লাইওভারে কোনো সিগনাল থাকবে না। রামপুরা যেতে চাইলে আবুল হোটেল থেকে উঠা যাবে ফ্লাইওভারে। এভাবে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, নয়া পল্টন, পুরানা পল্টন, গুলিস্তান থেকে গাড়িগুলো বাধাহীন ভাবে চলতে পারবে।
এদিকে, ফ্লাইওভার উদ্বোধনের জন্য একটি অস্থায়ী মঞ্চও তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্লাইওভারটির উদ্বোধন করবেন। আর অস্থায়ী মঞ্চে উপিস্থত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা থাকবেন বলে জানা গেছে।
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ফ্লাইওভারটির কাজ তিন ভাগে করা হয়। গত বছরের ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে যান চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লাইওভারের ইস্কাটন-মৌচাক অংশের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তৃতীয় ধাপে এফডিসি মোড় থেকে সোনারগাঁও হোটেলের দিকের অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় গত ১৭ মে। বৃহস্পতিবার ফ্লাইওভারের মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ অংশও খুলে দেওয়া হবে উদ্বোধনের মাধ্যমে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যা ম্প রয়েছে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি রিখটার স্কেলে ১০ তীব্রতার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার।

Please follow and like us: