মানুষকে ছোট দেখাইয়া লাভ নাই, ন্যায্য বলেন: শামীম ওসমান

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘মানুষকে ছোট দেখাইয়া কোন লাভ নাই। ন্যায্য কথা বলেন। মসজিদটি অনেক সুন্দর হয়েছে। এখানে একটি মাদরাসা ছিল যেখানে কোরআন তেলাওয়াত করা হতো। যখনই এখানে আসতাম তখনই শুনতাম কোরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে। যেখানে কোরআনের হাফেজ তৈরি হয় সেখানে দিনরাত কোরআন পড়া হয়। বিশেষ করে গভীর রাতে তারা কোরআনকে রপ্ত করার চেষ্টা করে। ঐ সময়ে এই কবরস্থানে আমার বাপ দাদারা শুয়ে আছে সেখানে হয়তো অবশ্যই আল্লাহর রহমত নাযিল হতো।’
শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মাসদাইর মাসদাইরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থান জামে মসজিদে ভাষা সৈনিক প্রয়াত জননেতা একেএম শামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকী উপলে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান অনেক শিা প্রতিষ্ঠান করেছেন ও মসজিদ-মাদরাসা করেছেন। আল্লাহ তাদের তৌফিক দিয়েছেন দান করার তাই তারা দান করছে। আমার পরিবারের অনেকেই পাশের কবরে শুয়ে আছেন। এখানে আমার দাদা, দাদি, চাচা, বাবা ও তার পাশে আমার মা ও বড় ভাই শুয়ে আছেন। অস্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে স্থায়ী ঠিকানায় চলে গেছে। আমার বাড়ির কারো কোন আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে তাহলে তাদের প হয়ে আমি আপনাদের সবার কাছে মা চাচ্ছি। আপনারা তাদেরকে মাফ করে দিবেন।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার মা পরের উপকার করেছেন এবং তিনিও ভাষা সৈনিক ছিলেন। আমার বাবা বাংলাদেশের একটা ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও আমাদের ভাইবোনদের জন্য এক টাকাও রেখে যায়নি। যেটা দিয়েছেন সেটা হলো আমাদের দাদার দেওয়া দ্বীন। এক অংশ ওয়ারিশ জায়গা আমার বাবা দখল করেনি। যে পরিমাণ অর্থ আমার মা-বাবার ছিলো নারায়ণগঞ্জের অর্ধেক কিনতে পারতেন। আমার বাবা সেরকম করে নাই। আর করে নাই বলে আমার বাবার তিন ছেলেকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। কারণ কেউ যদি মানুষের জমি দখল করে কোরআনে লেখা আছে, সে জমির পরিমান এতটুকুও হলে কেয়ামতের দিন ওহুদ পাহাড় তার গলার ভিতর ঢুকিয়ে দিবে।’
সাংসদ বলেন, ‘আমি আজকে এই ইমাম সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বললাম। তিনি উঠে চলে গেলেন, আমি মতাবান। কিন্তু তিনি তো ইমাম, তার পিছনে আমি নামাজ পড়ি। সম্মানটা আমার চেয়ে তার কম না বরং বেশি। তাই এ ধরণের মানুষকে অপমান করা ঠিক না। যে কথা বলার দরকার সে কথা বলতে পারি না। আমরা রাজনীতিবিদ আমাদের কথায় অনেকে কষ্ট পায়। আমি বড় বড় সবগুলো কাজ নিয়ে আসছি। শুধু মাত্র মেডিকেল কলেজ ছিল না তাও নিয়ে আসছি।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সহসভাপতি রবিউল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, অয়ন ওসমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. কামাল, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু প্রমুখ।

Please follow and like us: