‘বেশি উজাইও না, বেশি মাতাইও না’

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আপনি চাইলে আপনার ঘরের বউকেও তালাক দিতে পারবেন। আমি কাউকে বলি নাই, আপনি নির্বাচন করবেন না। তাহলে আমার উপর আওয়াজ তুলছেন কেন? আপনার নির্বাচনেও কিন্তু আমি সমর্থন দিয়েছি। আমরা ক্যান্ডিডেট পাই নাই। একদিন উড়াল দিয়ে আইসা চেয়ারম্যান হইছেন। আপনার বাপের সম্মানে আপনাকে দেওয়া হইছিল। অনুরোধ করছি, আপনি খোচাখুচি কইরেন না। আমার দাদা একটা কথা বলতেন, আরে দাদি বুড়ি তুমি তো দামড়ি, দামড়া দেখছো, ষাঁড় এখনও দেখো নাই। বেশি উজাইও না, বেশি মাতাইও না। এটা একটা চাল যে, আমাকে গালি দিবে, আমি উত্তেজিত হবো। উত্তেজিত হয়ে আমি উন্নয়ন থেকে ব্যাহত হবো।’

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাংসদ আরও বলেন, ‘আমি দান করি না। আমি যদি ডান হাত দিয়ে দান করি আমার বাম হাত জানতে পারবে না। আমি কেবল আমার দায়িত্ব পালন করি। আমি সরকারের টাকা খরচ করে বলি না, ‘আমি এটা করে দিলাম’। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এটা বলেন না। বরং তিনি বলেন ‘আমরা করে দিলাম’। আর একজন বলেন, আমি এটা করে দিলাম। যেন ওনার বাপের সম্পদ। সুতরাং আপনাদের রাগ করার কিছু নেই। এগুলো করে দেওয়া হয়েছে তা আমাদের পরিশ্রমের পয়সায়। আমরা ট্যাক্স দিয়েছি, তার বিনিময়ে আপনি উন্নয়ন করে দিতে আপনি বাধ্য।’

তিনি বলেন, ‘খোকন সাহা, চন্দন শীল, বাদল আপনারা প্রতিটি ঘরে ঘরে যান। ঘরে ঘরে গিয়ে বোঝান আপনাদের আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের পরেও একটা ধাপ রয়ে গেছে আমি যাদের নাম বলেছি। তাদেরকেও এখন থেকে অগ্রসর হতে হবে। লাঙ্গল আছে বলেই আমরা পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করতে পেরেছি। আমাদেরকে নৌকার উপরে লাঙ্গল উঠিয়ে দিয়েছে। রাজনীতিতে কোন শেষ কথা নাই।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমার চেয়ারম্যানদের প্রতি অনুরোধ রইলো, নয়টা করে ওয়ার্ড আপনাদের। অতীতে যদি কোন ভুলত্রুটি করে থাকেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষমা চান। ভুল ত্রুটি মানুষের হয়, শয়তানের হয় না। ভোটের মাধ্যমে আপনাদের জয়ী হতে হবে। সেলিম ওসমানের নমিনেশনে না। সেলিম ওসমানের কোন ক্ষমতা নাই কাউকে নমিনেশন দেওয়ার। শুধু শুধু লাঙ্গলে লাথি দিয়ে পা ভাঙ্গবেন না।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সহসভাপতি চন্দন শীল, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আরিফ আলম দিপু, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা শান্তা, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন আহমেদ, ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ প্রমুখ।

Please follow and like us: