এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রস্তুত

করোনার সময় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভবপর না হওয়ায় সনদ প্রদানের জটিলতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে সংসদে পৃথক তিনটি বিল উত্থাপন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিল তিনটি উত্থাপনের পর গতকালই শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিল তিনটি পর্যালোচনা করে সংসদে প্রতিবেদন দাখিলের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৯৬ অধিকতর সংশোধনকল্পে আনীত বিল ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন সংশোধন বিল ২০২১’, ‘কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল, ২০২১’ ও ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল, ২০২১’। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই অপেক্ষা করছেন এবং আমাদের ফলাফল সব প্রস্তুত আছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদের অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, বিলটি মন্ত্রিপরিষদে আনার পর বলেছিলাম যেহেতু ১৮ জানুয়ারি সংসদ শুরু হবে তারপর দ্রুততার সঙ্গে তা উত্থাপনের চেষ্টা করব। যেদিন সংসদ পাস করবে, যদি সংসদ পাস করে, তারপর আমরা দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল দেব। সংসদ কবে পাস করবে তার ওপর নিশ্চয়ই কথা বলবার এখতিয়ার নেই। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই দ্রুততার কথা এসেছে। আমাদের বোর্ডের সব পরীক্ষা এ আইনের অধীনেই হয়। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় এবং এক দিনের মধ্যে বিলের রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা বিল দুই দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে বিল তিনটি অনুমোদন লাভ করার পর চলতি অধিবেশনেই পাস হবে এরপর এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে বিলের বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমাম। বিলটি সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার (স্পিকারের) অনুমতি সাপেক্ষেই বিলটি এসেছে। কেননা এর কিছু গুরুত্ব আছে। এ তিনটি বিল আমাদের পাস করে দিতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এ বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচএসসি ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবাই অপেক্ষা করছেন এবং আমাদের ফলাফল সব প্রস্তুত আছে। যেহেতু আইনে পরীক্ষা গ্রহণপূর্বক ফলাফল দেওয়ার বিষয়টি ছিল। এবার বৈশ্বিক সংকটের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা বিকল্প একটি পদ্ধতিতে আগের দুটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ ফলাফল দিতে যাচ্ছি। সে কারণে বর্তমান আইনটি সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। সে কারণে এটি আনা হয়েছে।’ জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমাম বলেন, সংবিধানের ১৭ (ক) ধারায় বলা আছে ‘একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সব বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান।’ সেখানে ১২ বছর রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে। এখন আপনি পরীক্ষা উঠিয়ে দেবেন এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না? তিনি বলেন, ‘এ বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বিরুদ্ধে আমি নই। কিন্তু এখানে কার্যপ্রণালিবিধির ৭৭-এর (ঙ) অনুসারে যে কোনো বিল তিন দিন আগে পাওয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু তা পাইনি।’
পরে কণ্ঠ ভোটে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। এদিকে গতকাল সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন সংশোধন বিল, ২০২১, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশোধন বিল, ২০২১ ও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল, ২০২১ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রস্তাবিত বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে সঠিক আছে মর্মে সংসদে পাসের লক্ষ্যে সংসদে প্রতিবেদন পেশের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির সভাপতির অনুপস্থিতিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সিনিয়র সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মো. আবদুস সোবহান মিয়া, এম এ মতিন ও গোলাম কিবরিয়া টিপু বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us: