দ্বিতীয় দফার পৌর নির্বাচন: আ. লীগ ৪৫, বিএনপি ৪

স্টাফ রিপোর্টার: দ্বিতীয় দফার পৌর নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়-জয়কার। ১৬ জানুয়ারি মোট ৬১টি পৌরসভায় নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে এরমধ্যে ৪টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এসব পৌরসভায় মেয়র পদে ভোটের দরকার পড়েনি। এছাড়াও নীলফামারীতে মেয়র প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। ফলে মেয়র পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয় মোট ৫৬টি পৌরসভায়।
ভোট হওয়া ৫৬ পৌরসভার মধ্যে ৪১টিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। আর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৪ জনসহ দলটির বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ৪৫ জন। বিএনপির অনেক প্রার্থী ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের অভিযোগসহ নানা কারণে নির্বাচন বয়কট করেছেন। এরপরও বিএনপি থেকে জয়ী হয়েছেন মাত্র ৪ জন।

এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিচয়ে জয় লাভ করেছেন ৮ জন। তবে তারা মূলত দলীয় বিদ্রোহী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রয়েছেন ৬ জন ও বিএনপির ২ জন। জয়ীর তালিকায় এবার এসেছেন জাসদ (ইনু)-র দল থেকে একজন এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে একজন। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীর তুলনায় ৪৩৮ ভোটে এগিয়ে থাকলেও এখানে একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত রয়েছে, তাই ফল ঘোষণা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মেয়র পদে অনেকগুলো পৌরসভায় নারী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পেয়েছেন মাত্র দুজন। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভায় হাসিনা গাজী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন নাটোরের গোপালপুর পৌরসভায় রোকসানা মোর্তজা লিলি।
এদিন উত্তরবঙ্গে নেমেছিল তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। মাঘর দ্বিতীয় দিবস হওয়ায় কাঁপুনে ধরানো শীত ছিল দেশজুড়ে। পাশপাশি মহামারি করোনার ঝুঁকি। এরপরও শীত ও করোনার ভয় উপেক্ষা করে ভোট দিতে বের হন বিপুল সংখ্যক ভোটার। ইভিএমের পাশাপাশি ব্যালটেও ভোট হয় অনেকগুলো পৌরসভায়। অবশ্য নির্বাচন শুরুর পর সব সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক থাকলেও দুপুর ও বিকালের দিকে অনেকগুলো পৌরসভায় কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখল, মারধর ইত্যাদি অভিযোগে ভোটবর্জন করেন বিএনপির প্রার্থীরা।

এর বিপরীত চিত্রও আছে। নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা দলীয় প্রার্থী ও দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই হয়েও সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করেন। এ নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীও স্বীকার করেন ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।
বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা:

আওয়ামী লীগ জয়ী যেসব পৌরসভায়: নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা, নাটোরের গোপালপুর পৌরসভায় রোকসানা মোর্তজা লিলি, নলডাঙ্গা পৌরসভায় মনিরুজ্জামান মনির, গুরুদাসপুর পৌরসভায় শাহনেওয়াজ আলী, সুনামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র নাদের বখত ও ছাতক পৌরসভার বর্তমান মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, সাভার পৌরসভায় আব্দুল গনি, পাবনার ফরিদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী খ. ম কামরুজ্জামান মাজেদ, সাঁথিয়া পৌরসভায় মাহবুবুল আলম বাচ্চু, ঈশ্বরদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ইসাহাক আলী মালিথা, মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে আহম্মেদ আলী, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় সিপার উদ্দিন আহমদ, কমলগঞ্জ পৌরসভায় মো. জুয়েল আহমদ, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় আনিছুর রহমান, কুমিল্লার চান্দিনায় শওকত ভূঁইয়া, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভায় কাজী আশরাফুল আজম, নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভায় মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন, সিরাজগঞ্জ সদরে সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, উল্লাপাড়ায় এস. এম নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জে আব্দুল্লাহ আল পাঠান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন, খাগড়াছড়ি পৌরসভায় নির্মলেন্দু চৌধুরী, বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভায় মতিউর রহমান মতি, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভায় একেএম আতাউর রহমান খান ও জেলার বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় আবদুল মালেক, বান্দরবানের লামা পৌরসভায় মো. জহিরুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভায় শেখ আব্দুর রহমান, নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভায় রেজাউল কবির চৌধুরী, দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় আক্কাস আলী, কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র আনোয়ার আলী, মিরপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের এনামুল হক, কুমারখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র শামসুজ্জামান অরুণ, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভায় মোক্তাদের মাওলা সেলিম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভায় বিল্লাল সরকার ও ফুলবাড়িয়া পৌরসভায় গোলাম কিবরিয়া, নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভায় আসাদুল হক ভুঁইয়া, মোহনগঞ্জ পৌরসভায় লতিফুর রহমান, ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভায় সেলিম রেজা জয়, শরীয়তপুর পৌরসভায় পারভেজ রহমান, ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভায় ওমর ফারুক খান।

এছাড়া এর আগে আওয়ামী লীগ থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় মনোনীত প্রার্থী গোলাম হাসনায়েন রাসেল, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভায় আব্দুল হান্নান তালুকদার, পিরোজপুর পৌরসভায় হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভায় হাসিনা গাজী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী জয়ী যেসব পৌরসভায়: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামান বকল, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় সাজ্জাদুল হক রেজা, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় মুক্তার আলী, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভায় মোশারফ হোসেন বাবুল, গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মো. মতলুবর রহমান, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় মোহাম্মদ হোসেন ফাকু।

বিএনপি জয়ী যেসব পৌরসভায়: বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী (ধানের শীষ) তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, দিনাজপুর পৌরসভায় হ্যাটট্রিক জয়ী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভায় সাবির আহমেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচনে মো. হাবিবুর রহমান মানিক।

বিএনপি বিদ্রোহী জয়ী যেসব পৌরসভায়: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী ও দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় পার্টি থেকে জয়ী একমাত্র মেয়র আবদুর রশীদ সরকার ডাবলু (গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা)জাতীয় পার্টি থেকে জয়ী একমাত্র মেয়র আবদুর রশীদ সরকার ডাবলু (গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা)
জাতীয় পার্টির (জাপা) জয়ী যে পৌরসভায়: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির (জাপা) আবদুর রশিদ রেজা সরকার বেসরকারি ভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

জাসদ (ইনু) জয়ী যে পৌরসভায়: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী আনোয়ারুল কবির টুটুল।

Please follow and like us: