সিলেটবাসী বিদ্যুৎ কখন পাবে কেউ জানে না

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: সিলেটের কুমারগাওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিড লাইনে আগুনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো সিলেট। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সিলেটের পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন। কখন পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারননি কেউ। আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নগরবাসীকে জানাতে দুপুর ২টা থেকে নগরীতে মাইকিং করানো হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় গ্রিড লাইনের দুটি ট্রান্সমিটারে আগুন লেগে যায়। ফায়ার ব্রিগেডের ৭টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে জয়ন্ত কুমার নামে দমকলবাহিনীর এক সদস্য দগ্ধ হন। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপপরিচালক শওকত হোসেন বলেন, গ্রিড লাইনের আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ট্রান্সমিটারের জ্বালানি তেল থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের সিলেট কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অনেক সময় লাগবে। আগুনে গ্রিড লাইন ও ট্রান্সমিটার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশকিছু যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। পিডিবি ও পিজিসিবি একসঙ্গে এগুলো সংস্কারে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি সংস্কার ও পরিবর্তন করতে হবে। তবে কতক্ষণের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য দুর্বল সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুষছেন সিলেট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক কোবাদ আলী সরকার। তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেই। হাইড্রেন্ড বা পানির ব্যবস্থা থাকলে আরও সহজে আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো। ক্ষতিও অনেক কম হতো।

আগুন লাগার খবর পেয়ে দুপুরে কুমারগাঁও গ্রিড স্টেশন এলাকায় যান সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এখন পর্যন্ত পুরো সিলেট জেলা বিদ্যুৎহীন আছে। পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের সব গ্রাহকরাই বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎহীনতার কারণটি জনগণকে জানাতে মাইকিং করানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারা অগ্নিকা-ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন।

এদিকে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে আগুন লাগার ঘটনায় ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড অব কোম্পানি। তবে এ কমিটিতে সিলেটের কোনো কর্মকর্তাকে রাখা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে আগুন লাগার পর বিকালে এ কমিট গঠন করা হয় বলে জানান বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ অঞ্চল সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন। তিনি জানান, পাওয়ার গ্রিড অব কোম্পানি তত্ত্বাবধানে করা এ কমিটিতে মোট ৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন কমিটিতে।

কীভাবে আগুনের সূত্রপাত এবং কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয় করতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন।

Please follow and like us: