নারায়ণগঞ্জে সংখ্যালঘুদের রক্ষাকবচ ও শেষ আশ্রয়স্থল ওসমান পরিবার: খোকন সাহা

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার সংখ্যালঘুদের রক্ষাকবচ ও শেষ আশ্রয়স্থল বলে মন্তব্য করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নতুন পালপাড়া পুনঃ নির্মিত সার্বজনীন পূজা মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। নতুন পালপাড়া পূজা কমিটির সভাপতি এডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এই সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান।
তিনি বলেন, এই নারায়ণগঞ্জে সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় অভিভাবক হলো ওসমান পরিবারের প্রতিটি সদস্য। সেই ৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলে নারায়ণগঞ্জে অনেক বড় বড় নেতা নেতামি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ঐ সময় প্রয়াত সামসুজ্জোহা সাহেব দাঙ্গা দমন করার জন্যে মাঠে নেমে পড়েছিলেন। খান সাহেব ওসমান আলী তখন অসুস্থ অবস্থায় সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।এই দাঙ্গা দমন করার জন্যে তাদের আঘাত করা হয়, তারা শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে এরশাদ আমলে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হলে, তাদের মন্দির, গীর্জা ভেঙ্গে দিলে তখন ওসমান পরিবারের প্রতিটি সদস্য সর্বাগ্রে এগিয়ে এসেছিল। সংখ্যালঘুদের রক্ষাকবচ ও শেষ আশ্রয়স্থল হলো ওসমান পরিবার।
তিনি আরও বলেন, আমি বিগত ২৪ বৎসর ধরে এই মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছি। রাজনীতিতে আমার যোগ্যতা ছিল বলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ওসমান পরিবার আমার যোগ্যতা বিবেচনা করে এই পদে আমায় বহাল রেখেছেন। আমি রাজনীতিতে যখনই সমস্যায় পড়েছি তখনই সেলিম ভাই, শামিম ভাই এবং নাসিম ভাইয়ের দ্বারস্থ হয়েছি। তারা আমায় নানা ভাবে উপকৃত করেছে।
খোকন সাহা বলেন, নারায়ণগঞ্জে দৃশ্যমান উন্নয়ন একমাত্র ওসমান পরিবারই করেছেন। নিজদের টাকা পয়সায় অনেক কিছু উন্নয়ন করেছেন। আগামীতে আপনারা ওসমান পরিবারের সদস্যদের সমর্থন করবেন। উনাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। তিন পুরুষ যার সংসদ সদস্য, বাংলাদেশের ইতিহাস এ রেকর্ড নাই। তাদের জন্য এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্য আশির্বাদ করবেন। বিশাল হিন্দু সম্প্রদায়ের দেশ ভারতে তাদের সরকার এবার পুজার সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন। তাদর সরকারের সাথে হিন্দু সম্প্রদায় বসে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এই মহামারী করোনাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ কাজ করেন নাই। আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, এফবিসিসিআই পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউদ্দিন প্রধান, ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, নারী কাউন্সিলর শারমীন হাবিব বিন্নি, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুন কুমার দাস প্রমুখ।

Please follow and like us: