কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সুদখোর “সিরাজ”

নিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ সিরাজ, টানবাজার সেন কোম্পানীর মদ বিক্রেতা। এক সময় নূন আনতে পানতা ফুরালেও মানুষের সাথে প্রতারনা, লাইসেন্স বিহীন সুদের ব্যবসা করে সিরাজ আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। নামে বেনামে বন্দর ও কাশিপুরে সিরাজের রয়েছে অনেক সম্পত্তি। নগদ টাকারও অভাব নেই। সিরাজের জীবনের নেপথ্যে ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, সে ছিল হিন্দু “১৪/১৫ বছরে জীবন জীবিকার জন্য টানবাজার পতীতালয়ে আশ্রয় নেয়, পতিতাদের জামা কাপড় ধুয়ে যে টাকা রোজগার করতো তাই দিয়ে এক আধ পেটা খেয়ে দিন কাটাতো, কিছুদিন পর বাদল মিয়ার মদের দোকানে গ্লাস ধোয়ার কাজ নেয়, কয়েকমাস পরেই সিরাজ বাদলের মদের দোকানের কর্মচারী বনে গিয়ে মদ বিক্রির দায়িত্ব নেয়।
টানবাজার পতীতা পল্লী উচ্ছেদের পর পতিতা সামুকে বিয়ে করে সিরাজ। বেকার অবস্থায় গিয়ে কাজ নেয় প বটি ট্যাংলরীতে। প্রতিদিন দুই-তিনশত টাকা রোজগার করে কোন মতে দিন যাপন করতে থাকে।
পূর্ব পরিচিত একজনের হাত ধরে সিরাজ টানবাজার সেন কোম্পানীতে চলে আসে, সেন কোম্পানীর মালিকের সহযোগিতায় প্রতিদিন ১৫/২০ বোতল মদ নিয়ে খুচরা বিক্রি করে সিরাজের জীবনের পরিবর্তন ঘটায়, সেন কোম্পানীর মালিক দর্পন ও জনি। ওরা দুই ভাই অর্থ সংকটে পড়লে সিরাজ পাঁচ-দশ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে বিশ^াস অর্জন করে। তারপরেই দর্পন ও জনির সাথে বেঈমানী শুরু করে। দেখা গেছে প াশ হাজার টাকা দুই ভাইকে দিয়ে ষ্ট্যাম্পে লিখে নিয়েছে পাঁচ লক্ষ টাকা, প্রতারণার মাধ্যমে জনি ও দর্পনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তাছাড়া খুচরা মদ বিক্রির পাশাপাশি নিয়মিত ইয়াবাও হরেক রকম নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করে বলে সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
সুচতুর সিরাজ হিন্দু হয়ে মুসলমান পরিচয় দিয়ে তার সঠিক পরিচয় আড়াল করে দীর্ঘদিন যাবৎ টানবাজার এলাকায় সুদের ব্যবসাসহ অবৈধ মাদক ব্যবসা করে আসছে। সুদের ব্যবসা করার জন্য সিরাজের বৈধ কোন লাইসেন্স নেই, তারপরেও টানবাজার এলাকায় সে সুদখোর ও মাদক ব্যবসায়ী নামে পরিচিত।
স্ত্রী সামুর বাবাকে বাবা ডেকে পতিতা পল্লী থাকাকালীন সময় মতিন হাওলাদারের দোকানে কাজ করত সিরাজ। মতিন হাওলাদারের সাথেও সিরাজ বৈঈমানী করেছে বলে তৎসময় মানুষের মুখে মুখে ছিল। বর্তমানে সিরাজ বাবুরাইল নূর মসজিদ এলাকায় বসবাস করে। পতিতা পল্লীর একটি ছেলেকে লালন পালন করে নাম রাখে সাগর। ছয় সাত বছর পূর্বে সিরাজের একটি মেয়ে হয় নাম তার খুশী।
সিরাজ লাইসেন্স বিহীন সুদের ব্যবসা করে দর্পন ও জনির কাছ থেকে চেক এর বিনিময়ে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
দূর্ণীতি দমন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সক্রিয় থেকে সিরাজকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তার অবৈধ টাকা উপার্জনের সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। সিরাজের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বি.এন.পি’র একটি অংশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আসছে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য। সিরাজের সার্বিক ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি এটাই প্রত্যাশা।

Please follow and like us: