না.গঞ্জে প্রথম স্বামীকে পেতে বর্তমান স্বামীকে হত্যা

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: দ্বিতীয় বিয়ের পরেও পূর্বের স্বামীর সাথে ছিল সর্ম্পক; তাই ডিভোর্স চেয়ে ছিলেন স্ত্রী। আর সেই ডিভোর্স দিতে অস্বীকার করায় খুন হয়েছে সুমন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের একটি বাড়ির ছাদ থেকে যে ‘অজ্ঞাত লাশ’ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ বলছে, ‘সেই লাশটি হতভাগা সুমনের (৩২)’।

খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সুমনের স্ত্রী ডলি আক্তার (৩৬), চাঁদপুর জেলার মতলবের মীর আব্দুস সালামের ছেলে মুজাহিদ মীর লিমন (১৮) ও সেকেন্দার আলী মজুমদারের ছেলে আলামিন (৪০)। এ ঘটনায় এখনও পলাতক রয়েছে ডলির পূর্বের স্বামী মীর আব্দুস সালাম।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইশতিয়াক রাসেল লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, প্রথমে আমরা নিহত সুমনের স্ত্রী ডলি আক্তারকে (৩৬) শিমরাইল মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁদপুর জেলার মতলব থেকে মুজাহিদ মীর লিমন (১৮) ও আলামিন (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ডলির পূর্বের স্বামী মীর আব্দুস সালাম পলাতক রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বিবাহ বিচ্ছেদের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ। ডলি আক্তার নিহত সুমনের স্ত্রী। সে দীর্ঘদিন ধরে সুমনের অজ্ঞাতে পূর্বের স্বামী আব্দুস সালামের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ডলি আক্তারকে ডিভোর্স দিতে সুমনকে চাপ প্রয়োগ করেন আব্দুস সালাম। সুমন তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে অস্বীকৃতি জানালে আব্দুস সালাম ও তার ছেলে মুজাহিদ মীর লিমন, আলামিন ও ডলি আক্তার মিলে সুমনকে তারই সিদ্ধিরগঞ্জের কলসী বিল্ডিংয়ের ঐ বাসার ৫তলায় খাবারের সাথে নেশাজাতীয় অতিরিক্ত টেবলেট সেবন করিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর তারা লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হয়ে বাড়ির ছাদে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।

হতভাগা সুমনের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার নতুন বাজার এলাকায়। তার পিতার নাম সামছু শেখ।

উল্লেখ্য, ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় হাবিবুল্লাহ হবুল মালিকানাধীন কলসী বিল্ডিং এর ৫তলা ভবনের ছাদে স্থানীয় লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

Please follow and like us: