জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের একতলার উদ্বোধন

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: করোনা পরিস্থিতিতে আপতাত কার্যক্রম চালানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ২তলা ভবনের নিচ তলাটি উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই সকালে দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে ২তলা ভবনটির নিচতলা উদ্বোধন করা হয়েছে। আর আগে ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সহ বেশ কয়েকজন এবং সরকারী ভাবেও জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হয়। সেদিনে এমপি সেলিম ওসমান ভবনটি নির্মাণের জন্য ১ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর নিজেও ১ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। কিন্তু কেউ কোন প্রকার আর্থিক সহযোগীতা প্রদান না করায় এমপি সেলিম ওসমান একাই আইনজীবীদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১ কোটি টাকার পরির্বতে ৩ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করেন এবং সাড়ে ৯ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গায় ৮ তলা ফাউন্ডেশনে ২ তলা পর্যন্ত সম্পন্ন করে দেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়ার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাবেক নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, জেলা ও দায়রা জজ আনিসুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, সিনিয়র সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুব হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, নারায়ণগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশন এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব যদি এক সাথে মিলে কাজ করে তাহলে নারায়ণগঞ্জ হবে একটি উন্নত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং উন্নত শিল্প নগরী। প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত পূর্বের থেকেও অত্যাধুনিক বৃহৎ শিল্প নগরী হবে। অপরাজনীতির কারনে আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে পাট ও বস্ত্র শিল্প হারিয়েছি। এখন নীটওয়্যার পন্য রপ্তানির মাধ্যমে সারাবিশ্বে আমরা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতে পেরেছি। কোন দল না, কোন দ্বিদ্ধা দ্ব›দ্ধ না। নারায়ণগঞ্জের সকলকে বিশেষ করে সকল জনপ্রতিনিধিদের উক্ত তিনটি সংগঠনের সাথে একসাথে বসে কাজ করলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস নারায়ণগঞ্জ পুনরায় উজ্জীবিত হবে।

তিনি আরো বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশনটি তিন তলা ভবন সম্পন্ন করা হবে। যার মধ্যে একটি তলা নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুরুষ আইনজীবীদের জন্য। একটি তলা নারী আইনজীবীদের জন্য এবং এক তলা থাকবে সকল মুহুরীদের জন্য। পাশাপাশি আমি জেলা ও দায়রা জজ এর কাছে বিনীত অনুরোধ রাখবো যাতে করে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আইন কলেজটির উন্নয়ন করা হয়। আইন কলেজটির উন্নয়নের জন্য আমি তাঁর সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করছি।

নারায়গণগঞ্জের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও ভবিষ্যত প্রজেন্মর প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তন সন্নিকটে। সারা বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জই হবে সব থেকে উন্নত শিল্পায়নের জেলা। নারায়ণগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। সবাই একত্রিত হলে এটি হওয়া সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব, সামনে কোরবানী ঈদ। আসুন আমরা কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে অতীতের ভূলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে সবাই মিলে একাত্মতা ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে একত্রিত হই।

উল্লেখ্য,২০১৪ সালের উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এমপি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অবকাঠামোগত ভাবে ব্যাপক উন্নয়ন করেন। সরকারী অর্থায়নের জন বসে না থেকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর এবং বন্দর থানা এলাকায় ১০টি স্কুলে আধুনিক ভবন নির্মাণ করেন। যার মধ্যে তাঁর নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন ৭টি ইউনিয়নে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত খরচে আলীরটেক ইউনিয়নে কুড়েরপাড় শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয় ভবন, গোগনগর ইউনিয়নে এলাকায় বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ভবন ও বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম, ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর ইউনিয়নে নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়, মুছাপুর ইউনিয়নে শামসুজ্জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন, বন্দর ইউনিয়নে নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল, এবং কলাগাছিয়া ইউনিয়নে আলহাজ্ব খোরশেদুনেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় ভবন। মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৩কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গমাতা আলহাজ্ব ফজিলেতুনেচ্ছা মুজিব নামে নতুন বহুতল ভবন। বন্দরে নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তর ও মিসেস নাসরিন ওসমান নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। নির্মিত ৭টি স্কুলের প্রতিটি স্কুলেই রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম, সিসি টিভি ক্যামেরা, সাইন্সল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরী সহ শ্রেনী কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আধুনিক টোল টেবিলের ব্যবস্থা। নির্মিত স্কুল গুলোর মধ্যে নিজ উদ্যোগে শামসুজ্জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্পূর্ন বিনা খরচ, এবং নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র ভর্তি ফি নিয়ে সম্পূর্ন বিনা বেতনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটিতে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এই জনপ্রিয় এই সাংসদ। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ কলেজের পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে ১০তলা ফাউন্ডেশনে প্রতি তলায় ৮হাজার ৪’শ স্কয়ার ফিটের ৭তলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় এখন পর্যন্ত কলেজের তহবিল থেকে আনুমানিক ১০ কোটি ৫০লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক টোল টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ী সংগঠন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বিকেএমইএ এর সহযোগীতা দুটি লিফটের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে নবনির্মিত ওই ভবনটি শেখ কামাল ভবন নামে নামকরনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যে কোন সময় ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নের জন্য বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তিনি ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে সকল প্রকার রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালের সম্মুখ ভাগে সাড়ে ৫ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গায় ৬তলা ফাউন্ডেশনে ৪তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদন চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন। যেখানে নারায়ণগঞ্জের সকল ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা থাকবে। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় সম্পন্ন হলে সেটি মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি তিনি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিও ২০০ শয্যায় উন্নীত করনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে বন্দর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে ইতোমধ্যে তিনি ব্যক্তিগত এবং জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে একটি তহবিল গঠন করেছেন যা দিয়ে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেকটিকে ১০০ শয্যায় রূপান্তরের কাজ করা হবে।

এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এর মধ্যকার যোগযোগ ব্যবস্থা আরো সহজতর করতে নতুন আঙ্গিকে ডাবল রেললাইনের কাজ চলমান রয়েছে। শীতলক্ষ্যা-৩(নাসিম ওসমান সেতু) সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ দিয়ে আরো একটি সেতু একনেক থেকে অনুমোদন দিয়েছেন। পাশাপাশি বন্দরের মদনগঞ্জে শান্তিনগরের শান্তিরচরে ১৫০০ একর জমির মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের জন্য একনেক থেকে অনুমোদন দিয়েছে যেটি বাস্তবায়িত হলে ২৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। লাঙ্গলবন্দ মহাতীর্থ স্নান এলাকায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আর্ন্তজাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে সব গুলো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ হবে একটি আধুনিক শিল্প সমৃদ্ধ আধুনিক বাণিজ্যিক নগরী।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারী সংকট চলাকালীন সময় উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৩৩ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি চাল ও ৩০ হাজার কেজি ডাল বিতরন করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ২০ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে ৯০০ টাকা করে প্রত্যেকের বিকাশ একাউন্টে প্রেরণ করেছেন যার পরিমান ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় ৬৪০ জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের সেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া দেন এবং প্রত্যেককে মাসিক ৪৫০০ টাকা মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করেছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সম্মুখ যোদ্ধা খ্যাত খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্যও রেখেছেন অসামান্য অবদান। তিনি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স এবং ওয়ার্ডবয় দের থাকা ব্যবস্থা করেছেন। রোগীদের সেবা প্রদানে ৬টি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিয়েছেন। সেই সাথে মাসে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রত্যেকের তিন বেলা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খানপুর হাসপাতালে আইসিইউ ও পিসিআর ল্যাব স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য আরো প্রায় ৩০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।

Please follow and like us: