করোনার একমাত্র ওষুধ হচ্ছে মাস্ক: পাপ্পা গাজী

রুদ্রবার্তা২৪.নেট: গাজী গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা বিসিবি ও যমুনা ব্যাংকের পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা রূপগঞ্জবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ঈদুল আযহা আসছে । আমরা জানি এটা আনন্দের দিন। সবাইকে আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করব আমরা সামাজিক দূরত্ব মেইনটেইন করে চলব । মাস্ক সম্পূন্ন পরিপূর্ণ করে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে কোথাও যদি আপনাদের যেতে হয় যাবেন।

তিনি বলেন, এখন করোনা কাল। অনেকেই দূরত্ব মেইনটেইন করতে পারছেন না।তারপরও দুটো কথা বলি। সেটা হচ্ছে আপনারা জানেন যে সরকার মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করেছে। আমাদের সকলকে মাস্ক পড়তে হবে। আপনারা জানেন করোনার কোনো টিকা নাই, কোনো ওষুধ নাই। একমাত্র ওষুধ হচ্ছে মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্ব।
সোমবার ( ২৭ জুলাই) দুপুরে রূপগঞ্জে সমাজসেবা অধিদফতর ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জটিল রোগে আক্রান্ত ৬১ জন অসহায় দুস্থ রোগীকে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা বলেন, আমাদের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে চেকগুলো দেওয়া হচ্ছে এমন কিছু ব্যক্তিদেরকে যারা ক্যান্সার সহ জটিল রোগে আক্রান্ত। আসলে এটা মহৎ কাজ । আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নিদেশে এখানে এসেছি। বাংলাদেশের অন্য যে কোনো উপজেলার চেয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা একটু বেশি চেক পেয়েছে।

গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা বলেন ,আপনারা জানেন যে আমাদের বাংলাদেশে ব্যক্তিমালীকানাধীন গাজী পিসিআর ল্যাব সরকারের সাথে কাজ করেছে । আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার করোনাভাইরাস টেস্ট করেছি। এমনও সময় গিয়াছে যে রিজাল্ট দিবো পজেটিভ ফোন করেছি বলেযে সকাল বেলা ইন্তেকাল করেছে। রিজাল্টা শুনতে পারেনি।

সবাইকে মাস্ক পড়ার অনুরোধ জানিয়ে এই মন্ত্রীপুত্র বলেন, মাস্কটা আমরা কেনো পড়বো? অনেকে মজা করেন আমার অসুখ হবে না ,আমার কিচ্ছু হবে না। হ্যা হয়ত আপনার হবে না। কিন্তু এই অসুখটা নিয়ে যে আপনার বাসায় যাচ্ছেন। বাসায় আপনার বৃদ্ধা মা আছে বাবা আছে ছোট্ট শিশু আছে। তারাও আক্রান্ত হতে পারে।

করোনায় নিজের স্বজনদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে পাপ্পা গাজী বলেন, আমার নিজস্ব ডাক্তার উনি ইন্তেকাল করেছেন। আমার ফুফা তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আপনজন বহু ইন্তেকাল করেছেন। যারা মনে করেন যে করোনায় কিছু হবে না। এখন করোনার বয়স মাত্র পাঁচ মাস। এই করোনার উপর বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করছে। আপনারা দয়া করে নিজের জন্য হলেও সমাজের জন্য হলেও দেশের জন্য হলেও মাস্কটা আপনারা ধারণ করবেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের ইউএনও মহোদয় আছে আমি আপনাদের বিনীত অনুরোধ করব। আমি আসার সময় দেখলাম যে অনেক মানুষ মাস্ক ছাড়াই ঘোরা ফেরা করছে।

পাপ্পা বলেন, মাস্কটা পড়ে যদি আমরা কাজ করতে পারি। আমিও আপনাদের মতো স্বাভাবিক জীবন চাই। এই ঈদে আমি ঘুরতে চাই ,পরিবারের সদস্য নিয়ে আমরা আত্মীয়র বাসায় যেতে চাই। কিন্ত করোনার কারণে আমি যেতে পারব না। কারণ আমাদের মধ্যেও কিছু মানুষ আছে তারা অসচেতন। যারা মাস্ক পড়ে না, যারা সামাজিক দূরত্ব মানে না ,এই কারণে এটা ছড়িয়েছে।

সরকারের প্রশংসা করে এই তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে । আপনারা যদি দেখেন বিশ্বের ইউরোপের দেশগুলো ইতালি ,জার্মানী, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য কানাডা বলেন লক্ষ লক্ষ লোক করোনায় হাসপাতালের সামনে পেছনে পড়ে রয়েছে। আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষতার সাথে করোনা মোকাবেলা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এখন ইউরোপের মতো হয়নি। আমাদের আশে পাশের দেশগুলো আছে তাদেরকে দেখেন। তাদের চেয়েও আমরা ভালো আছি। আসল যখন একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াস হয় , যখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিয়ারস হয় , যখন প্রশাসন সিরিয়াস হয় তখন কিন্তু করোনাটি আমরা সামলাতে পারি। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব পালন করবে আর আমরা যারা নাগরিক আছি আমাদের দায়িত্ব পালন করব না তাহলে কোনোভাবেই কোনো অবস্থাতেই এই করোনাকে আমরা কিন্তু বশমানাতে পারব না। আমরা চাই করোনা মুক্ত একটা সমাজ, করোনা মুক্ত একটা বিশ্ব এই কারণেই আমি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করতেছি বারে বারে অনুরোধ করতেছি আপনারা সিরিয়াসলি দেখেন। মাস্ক পড়েন , সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস থেকে আমরা যখন গাজী পিসিআর ল্যাব চালু করেছিলাম তখন এমনও হয়েছে যে প্রায় ৮শ টেস্ট করেছি তার মধ্যে ২শ পজেটিভ । আপনারা জানেন বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম হটস্পট আমাদের এই নারায়ণগঞ্জ তার পর রূপগঞ্জ। গতকাল আমরা টেস্ট করেছি ১২৭টা তার মধ্যে ৯ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জের মানুষরা যখন ঢাকায় গিয়ে করোনা টেস্ট করাতো তখন রেজাল্ট পেতে ৪ থেকে ১০দিন সময় লেগে যেতো। ওরা কিন্তু কোয়ারেন্টাইনে যেতে পারত না। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। উনি সারারাত আমাকে জানিয়েছে যে রেজাল্ট কখন হবে। এখনো জানেন। একটা মানুষকে যখন আমরা রিজাল্টা জানিয়ে দিয়েছি । তার পরে সে নিজেকে নিরাপদে নিয়ে গেছে ।

গোলাম মর্তুজা পাপ্পা বলেন, এখন কিন্তু বাংলাদেশের যেকোনো জায়গার থেকে আমি সাহস করে বলতে পারি আমাদের নারায়ণগঞ্জের অবস্থা অনেকটা ভালো । এইটার জন্য আপনাদের সহযোগিতা, মন্ত্রী মহোদয় এবং উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় সবার সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নারায়ণঞ্জে আমরা করোনাকে বসমানিয়ে এনেছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর একান্ত সচিব এমদাদুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, ভাইস চেয়ারম্যান শাহরিয়ার পান্না সোহেল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন , সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান শাহিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মেহের, সাধারণ সম্পাদক নাঈম ভুইয়া , রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আনছর আলী, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভুইয়া মাছুম, মুড়াপাড়া সরকারী কলেজ শাখা ছাত্র সংসদের জিএস সজীবসহ অনেকে।

Please follow and like us: