উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পানি নামছে, মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

উজানের পানি নেমে যাওয়ায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের নদ নদীরগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বাড়ছে মধ্যাঞ্চলের পানি। এই অঞ্চলের যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গাসহ ঢাকার আশেপাশের নদ নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে আগামী ২৪ ঘণ্টায়। এতে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আগের মতোই অবনতি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ও বন্যা সংশ্লিষ্ট কমকর্তারা।

বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। যমুনা নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকতে পারে। একই সময়ে বাড়তে পারে পদ্মা ও গঙ্গা নদীর পানি। ঢাকা জেলার আশেপাশের নদীগুলোর পানি বাড়ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের আপার-মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ নদীরগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে জেলাগুলোর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর,নাটোর ও নওগা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

অন্যদিকে মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বন্যাকবলিত ৩০টি জেলা হলো- রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট,সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিলেট,জামালপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, নওগাঁ, শরীয়তপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর,
নাটোর, হবিগঞ্জ ময়মনসিংহ, রাজশাহী এবং মৌলবীবাজার। এই ৩০ জেলার ১৪৭টি উপজেলার ৮৫৯ ইউনিয়নের ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় আছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে ৩৫ জন। দেশের ১৮টি নদীর ২৮টি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি শনিবার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো, রবিবার তা কমে হয়েছে ৪৪ সেন্টিমিটার। একইভাবে ব্রহ্মপুত্র নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টের পানি ৬৫ থেকে কমে ৫৮, চিলমারী পয়েন্টে ৭৭ থেকে কমে ৭২, ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে ৭৫ বেড়ে ৭৬, করতোয়া নদীর চকরহিমপুর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৪২ থেকে কমে ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহতি হচ্ছে।

এদিকে যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। এ নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে একই আছে (১০৪ সেন্টিমিটার), বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে নতুন করে ১১০ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে ১১২, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ১১৭ থেকে বেড়ে ১১৯, কাজিপুর পয়েন্টে ৯৪ থেকে বেড়ে ১০০, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৮৩ থেকে বেড়ে ৮৮, আরিচা পয়েন্টে ৬৬ থেকে ৭৮, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে ১০২ থেকে বেড়ে ১০৬, আত্রাই পয়েন্টে একই ২৭, সিংড়া পয়েন্টে ৯০ থেকে বেড়ে ৯৩, ধলেশ্বরী নদীর জাগির পয়েন্টে ৮০ থেকে বেড়ে ৮৫, এলাসিন পয়েন্টে ১১০ থেকে বেড়ে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এখন প্রবাহিত হচ্ছে। লাক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ থেকে কমে ৯, কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে ৯৮ থেকে বেড়ে ১০৬, বালু নদীর ডেমরা পয়েন্ট ৪ থেকে কমে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১১১ থেকে বেড়ে ১১৬, ভাগ্যকূল পয়েন্ট ৭০ থেকে বেড়ে ৭৫, মাওয়া পয়েন্টে ৬১ থেকে বেড়ে ৬৭ এবং সুরেশ্বর পয়েন্টে ৩০ থেকে কমে ১৭ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ

দিকে পুরাতন সুরমা নদীর দিরাই পয়েন্টে ২৭ থেকে কমে ১৯, তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পয়েন্টের ৩০ থেকে বেড়ে ৩৩, মেঘনা নদীর চাঁদপুর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ২৭ থেকে কমে ১৯, আরিয়ালখান নদীর মাদারিপুর পয়েন্টে ১০ থেকে বেড়ে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Please follow and like us: