ওয়ারীতে লকডাউন শুরু শনিবার, পূর্ব রাজাবাজারে শেষ আজ

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউনের পর এবার ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ওয়ারী এলাকার ভেতরে-বাইরের আটটি রোডে লকডাউন শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার সকাল ছয়টা থেকে। পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার রাতে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের এই ৮টি এলাকার মধ্যে বাইরের রোডগুলো হলো টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা–সিলেট হাইওয়ের জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন এবং ভেতরের রোডগুলো হলো লারমিনি স্ট্রিট, হরী স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, র‍্যাংকিং স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে লকডাউন বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা শেষে ডিএসসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাংবাদিকদের বলেন, আগামী শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ছয়টা থেকে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। এসব এলাকা ২১ দিন লকডাউন থাকবে।তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় কেবলমাত্র দুটি সড়ক হয়ে যাতায়াত থাকবে। বাকি সড়কগুলোর মুখগুলো আমরা বন্ধ করে দেব। সেখানে একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নমুনা সংগ্রহ করার জন্য বুথ স্থাপন করা হবে।’

এর আগে গতকাল সোমবার এই রেড জোনে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য ডিএসসিসিকে চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। তারও আগে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে পরীক্ষামূলকভাবে চলা পূর্ব রাজাবাজারে ২১ দিনের লকডাউন আজ মঙ্গলবার রাতে শেষ হচ্ছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান। এরপর এলাকাটিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখা চলা হবে। আর কোনো বাড়িতে যদি করোনা রোগী থাকে তাহলে কেবল সেই বাড়িটি আরও কিছুদিন লকডাউন করা হতে পারে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১ জুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন বা লাল (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ) এলাকায় ভাগ করে ভিন্নমাত্রায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৯ জুন দিবাগত রাত অর্থাৎ ১০ জুন প্রথম প্রহর থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলকভাবে লকডাউন শুরু হয়েছিল।
তথ্যসংক্রান্ত কাজে যুক্ত স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের একজন কর্মী গতকাল প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, লকডাউন শুরুর পর স্থানীয় নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থাপিত নমুনা সংগ্রহ বুথে গতকাল পর্যন্ত মোট ৩০৭ জন নমুনা দেন। এর মধ্যে ২৭ জুন পর্যন্ত দেওয়া নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তাতে মোট ৫৫ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ জুন ১০ জন নমুনা দিয়ে শনাক্ত হন ২ জন এবং ২৭ জুন ৮ জন নমুনা দিয়ে শনাক্ত হন একজন। এ ছাড়া এর আগে যাঁরা শনাক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগের শারীরিক অবস্থা ভালো।
লকডাউন শুরুর সময় এই এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছিলেন ৩১ জন। করোনায় একজন মারা গেছেন। এখানে মোট ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষের বাস।

Please follow and like us: