সোনারগাঁয়ের গর্ব দরিদ্র ও অসহায়দের মানবতার সুপারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান মাসুম

মোঃ শামছুল আলম তুহিন : মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত আজ সারা পৃথিবী। এই প্রাণঘাতী করোনা বিশ্বের উন্নতশীল দেশগুলোকে কোপোকাত করে এরই মধ্যে ধ্বংসাত্মক গতিতে আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। তাই বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা সিভিল সার্জন, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ণ পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কর্মকর্তাগণ জীবনের মায়া ত্যাগ করে যাচ্ছেন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে সারা নারায়ণগঞ্জের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে যারা পরিচিতি পেয়েছেন তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এবং জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম উল্লেখযোগ্য।

জেলার সোনারগাঁ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন। এসব এলাকার একজন মেয়র ও ১০জন চেয়ারম্যান ছাড়াও জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভায় রয়েছেন ৯জন কাউন্সিলর ও তিনজন সংরতি নারী কাউন্সিলর। এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে রয়েছেন আরো ১২ জন করে ওয়ার্ড মেম্বার (সদস্য) ও সংরতি নারী মেম্বার। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ রয়েছেন আরও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যান। পুুরো উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যেখানে এমপি হিসেবে রয়েছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে অর্ধাহারে অনাহারে থাকা দিনমজুর খেটে খাওয়া দুস্থ-গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে কার কি ভুমিকা সেটা স্থানীয়রাই সবচেয়ে ভাল জানেন। যেখানে সোনারগাঁয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এমপি খোকা। হটলাইন চালু করেছেন তিনি, ফোনে কেউ খাদ্য সামগ্রীর অভাবের কথা জানালে এমপি’র পে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে। এর আগে থেকেই এমপি খোকা নিজ হাতে রাতের আঁধারে ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরনও করেছেন। এমপি খোকার মতই তার সঙ্গে মানবতার সেবায় নেমেছেন উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান মাসুম। নিজ ইউনিয়ন পিরোজপুরে প্রতিদিনই শত শত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২৫০ জন প্রতিবন্ধিদের মাঝেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ৫০জন হিজড়া সম্প্রদায়ের মাঝেও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের আনাচে কানাচে তার ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে যাচ্ছে। শুধু তিনি তার ইউনিয়নের মানুষের মাঝেই নয়, পুুরো সোনারগাঁয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সোনারগাঁ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। বেদে সম্প্রদায়ের মাঝেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণে করেছেন বলেও জানা গেছে। ত্রাণ সামগ্রী কারও প্রয়োজন হলে তার হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুধু গরীব, দিনমজুর, খেটে খাওয়া দুুস্থ অসহায় মানুষের সেবাতেই নয়, যেসব মানুষ কারও কাছে হাত পেতে চেয়ে নিতে পারেন না, সেসব মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝেও তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারন তিনি ত্রাণ সামগ্রী বিতরনকে ত্রাণ কিংবা অনুদান বলতে নারাজ। তিনি মনে করেন, অনুদান হিসেবে নয়, তিনি উপহার হিসেবে মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়িয়েছেন। যেমনটা তিনি সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠনের মাঝে ৫টি করে পিপিই প্রদান করেছেন। সেই সঙ্গে থানা পুুলিশের মাঝেও তিনি পিপিই প্রদান করেছেন। এ ছাড়াও তিনি সরকারি বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বারদের নিয়ে সুুষ্ঠুভাবে বিতরণ করছেন। সরকারি বরাদ্দ ইউনিয়নের মানুষের জন্য অপ্রতুল হওয়ায় সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে ভর্তুকি দিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। এসব কারনে সোনারগাঁয়ে যেসব ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছেন তাদের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন ইঞ্জিঃ মাসুম।

স্থানীয়রা বলছেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারনে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতিটি অসহায় ও হত-দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে দিন-রাত অব্যাহত চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই ইঞ্জিঃ মাসুম পিরোজপুরবাসীকে সচেতন করতে লিফলেট, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সুরা সামগ্রী প্রদান করা থেকে শুরু করে বাজার মনিটরিং, সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে মাইকিংসহ নানামুখী কার্যক্রম পালন করছেন।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপদজনক অবস্থানে আছে সোনারগাঁ উপজেলা। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক এবং নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ইঞ্জিঃ মাসুম। একজন সফল চেয়ারম্যান হয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় সারা দেশের জন্য উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই নিজ অর্থায়নে তিনি তার ইউনিয়নের কয়েক হাজার জনসাধারণের মাঝে মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ ও সাবানসহ জীবাণুনাশক বিতরণ করেছেন। তার নির্বাচিত এলাকায় শিল্প কারখানা বেশি থাকায় হাজার হাজার শ্রমিকদের মাঝেও তিনি করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় তিনি একজন চেয়ারম্যান হয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মানুষের পাশে কিভাবে দাঁড়াতে হয়। রমজান মাসের শুরুতেই তিনি সোনারগাঁয়ের কয়েক’শ ভিুক এবং অবহেলিত হিজরা সম্প্রদায় এবং তার গ্রাম পুলিশদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী নগদ অর্থ ও ইফতার সামগ্রী বিতরন করেছেন। তাছাড়া তিনি অসহায় ও দুঃস্থদের পাশাপাশি যারা মধ্যবিত্ত আছেন এমন মানুষদের বাড়িতেও তার উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিদিন তিনি সারা সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশাপাশি মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিনসহ মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। এছাড়া যতোদিন করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে এমন বিপর্যয় থাকবে ততদিন অবধি তিনি এভাবেই অসহায় মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করে যাবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

এমতাবস্থায় এমপি খোকা, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পিরোজপুর ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুমও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন সারা সোনারগাঁবাসীর অসহায় মুহুর্তে।

উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্পনগরী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস নিউমোনিয়া সর্ম্পকে সচেতনতা তৈরী করতে তার নির্দেশে হাত ধোঁয়া কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনা বাড়াতে সেদিনই মেঘনা শিল্পনগরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিষ্ঠানটির শিার্থীদের অংশগ্রহনে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটি হাত ধোয়া কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এরই ধারাবাহিতকায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সকল গ্রাম পুলিশদের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার প্রদান করে তাদের স্বাস্থ্য সুরার দায়িত্ব নেন ইঞ্জিঃ মাসুম। রাতে পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে গনসচেতনতা লিফলেটসহ এসব জিনিস বিতরনও করেন। পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাবেরচর, কাদিরগঞ্জ ও ঝাউচর ৩টি গ্রামের অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রান বিতরন করেন। এসময় তিনি নিজেও ত্রান নিতে আসা লোকজনের মাঝে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে ত্রান বিতরন করেন।

এদিকে ইঞ্জিঃ মাসুমের উদ্যোগে সোনারগাঁয়ের সকল অসহায় অস্বচ্ছল ৮ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এজন্য তিনি পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রীও মজুদ করে সেগুলোকে প্যাকেট করেন। তার ব্যক্তিগত গোডাউনে অর্ধ শতাধিক শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। একসাথে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয় বলে জানা গেছে। বেকার অসহায় পরিবারের মাঝেও ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়। গরীব ও অসহায়দের বর্তমান পরিস্থিতি চিন্তা করে চারদিকে প্রাণঘাতি করোনার ভয়কে জয় করে কিছুটা আতঙ্কের মধ্যেই চাল বিতরণ করেন ইঞ্জিঃ মাসুম।

তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্মে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনা সংক্রমনের ভয়কে উপো করে অসহায় পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিতরণ করছি। পিরোজপুরবাসী যাতে খাদ্যাভাবে না থাকে সেজন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। করোনার কারনে বেকার অসহায় ও দারিদ্র মানুষের মাঝে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করেছি। এমনকি সরকারের দেয়া ত্রান সামগ্রীর সাথে ভুর্তুকি দিয়ে সরকারী ত্রাণ বিতরণ করেছি।

জানা গেছে, করোনা প্রাদূর্ভাবের কারনে বেকার হয়ে পড়া অসহায় সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বিধান করতে সরকারের প থেকে প্রথম দিকে প্রতিটি ইউনিয়নে ৬০ প্যাকেটে ৫ কেজি চাল ২ কেজি আলু সরবরাহ করেছি। যা একটি ইউনিয়নের তুলনায় খুবই সামান্য।

এব্যাপারে ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান মাসুম আরও জানান, সরকারের দেয়া অসহায়দের মাঝে বিতরনের জন্য প্রথম দিকে ৬০ প্যাকেট ত্রান পেয়েছিলাম। এবার ৫ শত প্যাকেট ১০ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু পেয়েছি। যা আমার ইউনিয়নে খুবই সামান্য। সেজন্য সে প্যাকেটের সাথে নিজস্ব অর্থায়নে লবন, ময়দা ও পিয়াজ সাথে দিয়ে অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেছি। এছাড়া আমার নিজ উদ্যোগে পিরোজপুর ইউনিয়নে ১৫ শত প্যাকেট খাবার বিতরন করেছি। সেখানে চাল, ডাল, আলু, তেল দেয়া হয় এবং উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮ হাজার পরিবারকে দেয়ার জন্য খাদ্য সামগ্রী প্যাকেট করা হয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে আরো ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হবে। বেকার হয়ে পড়া অসহায় মানুষের খাবার নিশ্চিত করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৮ হাজার পরিবারের মাঝে খাবার বিতরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়।

এরই মধ্যে হিজড়া ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি তিনি তার পাড়া মহল্লার অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। সকাল থেকে পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। পিরোজপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ৫শত পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি লবন, ১ কেজি আটা ও ১ লিটার তেল দেয়া হয়েছে। এমনকি পিরোজপুর ইউনিয়নের মেম্বারদের হাতে এসব খাবার বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। পিরোজপুর ইউনিয়ন কমিউনিটি কিনিকের সামনে ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে এবং ইঞ্জিঃ মাসুম এর নিজস্ব অর্থায়নে কোরবানপুর, পাঁচানি, চরগোয়ালদী, শান্তিনগর ও শহীদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও সোনারগাঁ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে দরপত, ঠোঁটালিয়া এলাকা সমুহে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুমের প থেকে পবিত্র মাহে রমজানের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তার প থেকে এগুলো বিতরনের দায়িত্ব পালন করেন সোনারগাঁ ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ। তার মাধমেই রমজানের ইফতার সামগ্রী এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতারের পর হইতে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে বাড়ী বাড়ী গিয়ে জাগ্রত ৯৪ এর আহ্বায়ক কবির আহমেদ নিজ দায়িত্বে ইঞ্জিঃ মাসুমের তহবিল থেকে দেয়া খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করেন। পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে রমজানের খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করেন কবির আহমেদ ও পারভেজ আলম। পারভেজ আলম তার নিজ গ্রাম বাগমুছা ও কৃষ্ণনগর গ্রামের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে গোপনে আলহাজ্ব ইঞ্জিঃ মাসুম এর সাথে যোগাযোগ করেন। পরে ইঞ্জিঃ মাসুম নিজ তহবিল থেকে উক্ত খাদ্য দ্রব্য সোনারগাঁ ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ ও জাগ্রত ৯৪ এর পারভেজ আলমের মাধ্যমে বিকালে খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করেন। এছাড়া পৌরসভার তাজপুর এলাকায় চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুমের প থেকে কবির আহমেদ অসহায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও এলাকার সর্বসাধারণের মাঝে পবিত্র রমজানের ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ইছাপাড়া গ্রামের টাইগার কাবের পাশে সোনারগাঁ জাদুঘর ১ নং গেইট সম্মুখে, ৩নং ওয়ার্ডে ও ৯ নং ওয়ার্ডের কিছু অসহায় মানুষদের মাঝেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এমনকি জাদুঘরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ইঞ্জিঃ মাসুম এর প থেকে জাদুঘরের অসহায় ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এছাড়া পিরোজপুর ইউনিয়নের ১২৭ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান মাসুম। এছাড়া প্রতাবেরচর এলাকায় ভাটিবন্দর মাদ্রাসার শিক মাওলানা মোঃ কামাল হোসেনের কাছে উপহার সামগ্রী তুলে দেন তিনি।

এদিকে স্বনামধন্য চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুম উপজেলা সোনারগাঁয়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিকটও পৌঁছে দেন মাহে রমজানের উপহার হিসাবে ফলমূলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী। সরকারী, বেসরকারী এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত খাদ্য দ্রব্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুষম বন্টন করেন বলেও জানান পিরোজপুর ইউনিয়নের সাধারণ দিন মজুর, শ্রমিক, রিক্সাচালক, গরিব দুঃখী ও অসহায় সাধারণ জনগন। ইঞ্জিঃ মাসুম চেয়ারম্যান নিজ তহবিল থেকে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

ইঞ্জিঃ মাসুমের এই জনসম্পৃক্ততা বেশ সাড়া ফেলেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দলমত নির্বিশেষে ইঞ্জিঃ মাসুমের এই পাশে দাঁড়ানোর কথা স্বীকার করছেন সকলেই। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইঞ্জিঃ মাসুমের যে ভূমিকা রেখেছে তা নিয়ে অনেকে তাকে বিভিন্ন উপাধিতে ভুষিত করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ইঞ্জিঃ মাসুম সর্বদাই জনসাধারণের পাশে ছিলেন বলেই আওয়ামী রাজনীতিতে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। করোনার এই চরম পরিস্থিতিতে ইঞ্জিঃ মাসুম যে অবদান রেখেছে এবং রাখছে তা পুরো দেশের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়ীয়ার চর এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম। প্রায় ৫ মাস আগে তার গর্ভবতী স্ত্রী মনি বেগমকে ২ সন্তানসহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি। এ অবস্থায় মনি বেগম স্থানীয় একটি শিল্প কারখানার মেসে শ্রমিকদের রান্নাবান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। এরই মধ্যে করোনার প্রার্দুভাবের কারণে রান্নাবান্নার কাজও বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় মানবেতর এক অনিশ্চিত জীবনযাত্রা। গত ৪ মে সোমবার মনি বেগম সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এ অবস্থায় মনি বেগম অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। তাই সদ্যজাত শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দেনা পরিশোধ ও সংসারের খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ইঞ্জিঃ মাসুম ওই মা, তার সন্তানসহ পরিবারের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেয়ার পর চেয়ারম্যান মাসুম গিয়ে ওই শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করেন। পাশাপাশি ওই পরিবারের ঈদ বাজার, সন্তানদের জামা-কাপড় ও খেলনা দিয়ে আসেন। এর আগে তিনি ওই পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে মাসুদুর রহমান বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আজ পৃথিবী এমন একটি সময় পার করছে, যা আমাদের প্রজম্ম দেখেনি। সারা পৃথিবীর এমন ক্রান্তিলগ্নে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঘরে বসে থাকতে পারিনা। আমি আমার যতটুকু সামর্থ আছে তা নিয়েই জনগণের পাশে দাঁড়াতে চাই। আল্লাহ যদি আমাকে কবুল করেন, তাহলে আমি পিরোজপুর ইউনিয়নের একটি অসহায় পরিবারকেও না খেয়ে থাকতে দিব না। সেই ল্েযই কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। শুধু করোনার প্রাদুর্ভাবই নয়, সবসময়ই আমি মানুষের কল্যাণে পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো। আমি ঘোষনা দিয়েছিলাম আমার ইউনিয়নে কেউই না খেয়ে থাকবেনা। তাই আমি অসহায় পরিবারের কাছে কয়েক দফায় খাদ্য ও উপহার পৌঁছে দিয়েছি। দুঃসময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। দোয়া করবেন, আজীবন যেন ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ থাকতে পারি। সরকারী ত্রানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থায়নেও কয়েক হাজার পরিবারের কাছে কয়েক দফায় খাদ্য উপহার পৌঁছে দিয়েছি। যতদিন মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকবে ততদিন আমার সাধ্যনুযায়ী অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করে যাবো। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হবার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আপনারা ঘরে থাকেন আপনাদের ঘরে খাদ্য পৌছে দেয়ার দায়িত্ব আমার।

অপরদিকে ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান মাসুমের সহধর্মিনী আয়েশা সিদ্দিকা শিখার উদ্যোগেও ১৮ মে সোমবার সকালে উপজেলার মেঘনা শিল্প নগরী স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি বন্ধুমহল ২০০০ ব্যাচের ১৯জন শিার্থীর সহযোগিতায় করোনার প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন অসহায়, দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সাড়ে ৫’শ মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী সেমাই, চিনি, দুধ, পোলাও চাল ও মসলা বিতরণ করা হয়। ৩ ধাপে প্রায় ২ হাজার ৫’শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। ঈদ সামগ্রী বিতরনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুদুর রহমান মাসুম।

Please follow and like us: