রোগীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা

রুদ্রবার্তা২৪.কম: রোগীকে অচেতন করে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে পুনরায় ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্টার। তিনি জেনারেল কলোরেস্টাল, ল্যাপারোস্কপিক ও প্লাস্টিক সার্জন এবং বার্ন বিশেষজ্ঞ। অভিযোগকারী নারীর বাড়ি ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায়। বর্তমানে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীনের আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে ডাক্তার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম।
মামলার আরজিতে বাদী বলেন- তিনি দীর্ঘদিন যাবত থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমিনুল ইসলামের খানপুরের নিজস্ব চেম্বার (গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগোনস্টিক এন্ড কনসালস্টেশন সেন্টার) এ বিগত ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই শরণাপন্ন হন।
পরবর্তীতে বাদী আবারো ওই বছরের ২০ আগস্ট আমিনুল ইসলামের চেম্বারের গেলে বাদীকে কিছু টেস্ট করতে হবে বলে বেডে শুতে বলেন। বাদী আসামীর সরল কথায় শুয়ে পড়েন। ইমার্জেন্সি ইনজেকশন নিতে হবে বলে ডাক্তার আমিনুল ইসলাম বাদীকে ইনজেকশন দিয়ে শরীর অবশ করে দেন। ইনজেকশন দেয়ার পর বাদী শরীরের কোন অংশই নড়াচড়া করতে পারেনি। বাদীকে একা পেয়ে আমিনুল ধর্ষণ করেন। বাদী ধর্ষণের পর ঘুমিয়ে পড়েন এবং সজাগ হয়ে চিৎকার করলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ও বাড়াবাড়ি করলে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করে। প্রতি সপ্তাহে আমিনুলের কাছে আসতে হবে বলে ভয় দেখায়।
এই ঘটনার পর বাদীকে মোবাইল ফোনে ভয় দেখাতে থাকে। বাদী বিবাহিত নারী এবং আত্মসম্মানের ভয়ে স্বামীর কাছে লুকিয়ে রাখে সেই ঘটনা। পরবর্তীতে নারীর স্বামীর কাছে পিয়ন দিয়ে খবর পাঠায় রোগীকে কিছু টেষ্ট করাতে হবে।
পরবর্তীতে বাদীকে তার স্বামী ডাক্তারের কাছে তার বোনকে সাথে নিয়ে যেতে বলেন। বাদীর বোনকে সাথে নিয়ে ওই ডাক্তারের চেম্বারে গেলে বোনকে বের করে দিয়ে চেম্বারের দরজা লাগিয়ে দেন এবং ধর্ষণ করেন।
এই ঘটনা বাদীর স্বামী বুঝতে পেরে বাদীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওই সময়ে নারী বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই মামলা করতে বিলম্ব হয়।

Please follow and like us: