নাসিম ওসমান যা পেয়েছে তার কিছুই আমি পাইনি : সেলিম ওসমান

রুদ্রবার্তা২৪.কম : সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন, আমার আগে আমার দাদা, বাবা এবং বড় ভাই বন্দরে কাজ করেছেন। বন্দরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু তারা অর্থ সংকটের কারনে অনেক কিছুই করতে পারেন নাই। আমি তাদের স্বপ্নের কথা জেনেছি, বন্দরের মানুষের কাছ থেকেও নাসিম ওসমানের স্বপ্নের কথা শুনেছি। আমি সেই ভাবেই কাজ করেছি।
৩ ডিসেম্বর রাত ৮টায় বন্দর উপজেলার অডিটরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দর সাথে মতবিনিময় সভায় ওই কথা বলেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও বিজয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিলো।
সেলিম ওসমান বলেন, এখন কেউ বলতে পারবেনা নাসিম ওসমানের কোনো স্বপ্ন অবাস্তবায়ন রয়েছে। সব গুলোই বাস্তবায়নের পথে। তবে হ্যা এটা সত্য নাসিম ওসমান বন্দরের মানুষের যতটা ভালবাসা পেয়েছে আমি তার কিছুই পাইনি। কারন সে সবার সাথে কথা বলতে পারতো। আমি তার দেখা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে, ব্যবসায় অনেক বেশি সময় দিয়ে অর্থ উপাজর্ন করে সেই অর্থ বন্দরের উন্নয়নে ব্যয় করেছি। ফলে আমি মানুষকে নাসিম ওসমানের মত সময় দিতে পারিনি।
তিনি বলেন, আপনারা নিজেরাও হয়তো জানেন না বন্দরে কি পরিমান উন্নয়ন হবে। ভবিষ্যতে মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে এখানে কাজ করতে আসবে। তাই অনুরোধ, আপনাদের জমি বিক্রি করে দিবেন না। সম্ভব হলে সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লট তৈরি করুন। আর যারা রাস্তার দুপাশে দোকানপাট করছেন তাদের কাছে অনুরোধ, একটু খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবসা করুন। ভবিষ্যতে আপনাদের যেন হাজীগঞ্জ, রেলওয়ের থান কাপড় ব্যবসায়ী, রহমত উল্লাহ ইনস্টিটিউট, বিনোদন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মত পথে বসতে না হয়। তাই রাস্তার পাশে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করতে গেলে আগে খোঁজ খবর নিবেন ভবিষ্যতে উন্নয়নের স্বার্থে সেগুলো ভাঙ্গা হবে কিনা, যাতে করে পরবর্তীতে আপনাদের সব হারিয়ে পথে না বসতে হয়।
সমরক্ষেত্র মাঠ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, জায়গাটি রেলওয়ের এবং সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সমরক্ষেত্র। প্রয়োজনে আমি রেল ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় উভয়ের কাছে যাবো। রেলমন্ত্রীর কাছ থেকে জায়গাটি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য চাইবো। পরে সেটি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় সকল উন্নয়ন আমরা করবো। সেটা সরকারী অর্থায়ন হোক আর ব্যক্তিগত ভাবে সকলের সহযোগীতা নিয়ে যেভাবেই হোক সেখানে টয়লেট, অডিটরিয়াম সহ পূর্নাঙ্গ কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়া হবে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুকা সরকারের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, কাউন্সিলর হান্নান সরকার, গোলাম নবী মুরাদ, সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু প্রমূখ।

Please follow and like us: