বেসরকারী কিনিক ও হাসপাতালে ভূল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করায় মালিকরা সাংবাদিকদের দোষারোপ করায় সোনারগাঁ সাংবাদিকমহলের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা

মোঃ শামছুল আলম তুহিন : বিভিন্ন হাসপাতাল ও কিনিক মালিকরা এবার নিজেদের সকল অনিয়ম ঢাকতেই স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল ও কিনিকে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় বেসরকারী হাসপাতাল ও কিনিক মালিক সমিতি উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে মঙ্গলবার এক মতবিনিময় সভা করেন। এসময় সেখানে হাসপাতাল ও কিনিক মালিকরা তাদের বক্তব্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সোনারগাঁ সেবা জেনারেলের হাসপাতালের মালিক নুরে আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের হাসপাতালে অভিজ্ঞ ডাক্তার রয়েছে। কোনো রোগী সংকটাপন্ন হলে ডাক্তার অন্য হাসপাতালে রিলিজ করে দেন। পরে রোগী রাস্তায় গিয়ে বা অন্য হাসপাতালে গিয়ে মারা গেলে তো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তার দায়ী নয়। তারপরও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়। অথচ সাংবাদিকরা বিষয়টি তদন্ত না করেই রোগীর স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে ঢালাওভাবে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে ওই ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করছেন। এতে সাংবাদিকরা সাধারন মানুষের আস্থা হারাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার রোকসানা মমতাজ সুমনা বলেন, একজন রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়। কোনো অবস্থায় একটি রোগী মারা গেলে রোগীর স্বজনরা হট্টগোল শুরু করে, হাসপাতাল ভাংচুর করে। এসময় সাংবাদিকরা কোনো তদন্ত না করেই একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে লিখে যাচ্ছেন। এতে ওই ডাক্তারের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরাও এখন থেকে কোনো রোগীকে ঝুকি নিয়ে চিকিৎসা না করে বিভিন্ন হাসপাতালে রিলিজ দিয়ে দেব।
তাদের দু’জনের এই বক্তব্যে সোনারগাঁ সাংবাদিকমহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সোনারগাঁয়ে পুরাতন ও নতুন সেবাসহ বেসরকারী হাসপাতাল ও অন্যান্য কিনিকগুলোতে একে একে বেশ কয়েকজন রোগীর ভূল চিকিৎসায় মৃত্যুবরন করার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সেবা জেনারেল হাসপাতালের মালিক নুরে আলমসহ অন্যান্য মালিকরা নিজেদের গাঁ বাঁচাতে এবং বিভিন্ন অনিয়ম ঢাকতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। বিভিন্ন কিনিক ও হাসপাতালগুলোতে অদক্ষ ডাক্তার, নার্সদের কোন সার্টিফিকেট নেই, সঠিক কোন কাগজপত্রও নেই। এমনকি এসব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো কোন যন্ত্রপাতি না থাকায়, ২৪/৭ এমবিবিএস ডাক্তার, ডিপ্লোমাধারী নার্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ হলে, সর্বোচ্চ ডকুমেনটেশন (যেখানে যেভাবে যা প্রয়োজন) সর্বোপরি আন্তরিক এবং সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে রোগীদের হয়রানী এবং রোগী মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমবে। গণমাধ্যমকর্মীরাও আপনাদের এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভালো সংবাদ পরিবেশন করার সুযোগ পাবে। তবে কোনপ্রকার দূর্ণীতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে বা তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের গণমাধ্যমে প্রকাশ করবেই। একমাত্র জনসচেতনতাই পারে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়াতে। জনগণ কিন্তু আমি, আপনি, আপনারা সবাই। আসুন নিজে সচেতন হই এবং অন্যদেরকেও সচেতন করি। অপরাধী সাব্যস্ত করে আমাদের দিকে একটি আঙ্গুল তুললে, চারটি আঙ্গুল কিন্তু আপনাদের নিজেদের দিকে থাকবে। তাই অযথা কোনো গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার রোকসানা মমতাজ সুমনার দেয়া বক্তব্যটি একটি হুমকীস্বরূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টমহল। তিনি তার বক্তব্যে, কোনো রোগীকে ঝুকি নিয়ে চিকিৎসা না করে বিভিন্ন হাসপাতালে রিলিজ দিয়ে দেয়ার হুমকী প্রদান করেন। তিনি হাসপাতালে কোন রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা না করে তার পরিচিত কোন কিনিকে পাঠিয়ে দেন বলে জানা গেছে। তার সাথে গোপনে কোন না কোন কিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে গোপন আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই তার দেয়া এমন আক্রমনাত্মক বক্তব্য অচিরেই ফিরিয়ে নেয়ার বা ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হালিমা সুলতানা হক বলেন, আমার হাসপাতালে ভাল স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার কারনে এখানে আগের চেয়ে বেশী রোগী আসছে। ফলে আপনাদের বেসরকারী হাসপাতালে রোগী কমে যাওয়ার কারনে প্রতিযোগিতামূলকভাবে অপারেশন করায় এ দূর্ঘটনা ঘটছে। আমি মনে করি, সরকারী হাসপাতালের সেবা যতই ভালো হোক আপনাদের বেসরকারী হাসপাতালে মানুষের চাহিদা থাকবেই। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা একটা রোগীকে সুন্দরভাবে সর্বাত্মকভাবে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা করবেন। একটা ডাক্তার যখন রোগীকে আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছে, এটা রোগীর স্বজনরা বুঝতে পারে। তাহলে রোগী মারা গেলে কেউ কোনো অভিযোগ তুলবেনা, ভাংচুরের কোন আশংকা থাকবেনা। আর সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক তারা একটা রিপোর্ট তাদের দায়বদ্ধতা থেকেই লিখতে হয়। তাই তাদেরকেও কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

Please follow and like us: