বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ

রুদ্রবার্তা২৪.কম: ভারতের অযোধ্যার আলোচিত বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় ‘একপেশে ও সাম্প্রদায়িক’ দাবি করে রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করে হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের রায় দেওয়া হয়েছে। এ রায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে।’
তারা আরও বলেন, ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ১৯৮৪ সালে বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের দাবি তোলে। অথচ মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির নির্মাণের কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই। এই রায় ঐতিহাসিক ও ন্যায় বিচারের দৃষ্টিকোন থেকে নয়, বরং বর্তমানের উপর দাঁড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরাতন ক্ষতকে উসকে দেওয়া হলো।’
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে মুসলমানদের ইতিহাস গৌরবময় ও সমৃদ্ধ। ভারতের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুসলমানরা অগ্রনায়ক ও পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আজ আটশ’ বছরের ইতিহাসকে অস্বীকার করা হচ্ছে। এতে সমাজে শুধু হতাশা ও অস্থিরতাই তৈরি হবে। তবে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় প্রতীকসমূহ রক্ষায় সংকল্পবদ্ধ।’
বিবৃতিতে তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব ও সকল শান্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং ধৈর্য, দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মুকাবেলা করার জন্য ভারতের মুসলমানদের প্রতি আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে ভারতের অযোধ্যার আলোচিত বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলার রায়ে মসজিদ নির্মাণে ভারত সরকারকে অন্যত্র পাঁচ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, মসজিদটি ফাঁকা জায়গায় নির্মাণ হয়নি। এর নিচে অন্য কাঠামো ছিল। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যেসব জিনিস পাওয়া গেছে, এতে বোঝা গেছে সেগুলো ইসলামি নয়। অযোধ্যায় বিকল্প স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্দিরের জন্য সরকারকে ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। বিরোধপূর্ণ জমি চলে যাবে ট্রাস্টের কাছে।

Please follow and like us: