তিনটি মিথ্যা মামলার চাপে ফেলে পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ আল-জয়নালের থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে

স্টাফ রিপোর্টার : ফাঁস হতে শুরু করেছে এসপি হারুনের মানুষ জনকে তুলে নিয়ে মুক্তিপন আদায়ের নানা তথ্য। বহুল আলোচিত ব্যাক্তি জয়নালকে ধরে নিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায়ের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জনৈক ব্যবসায়ী গত ২৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে গেলে এই অভিযোগটিকে চাঁদাবাজীর মামলায় রুপ দেন এসপি হারুন। জয়নালের একটি ঘনিষ্ট সূত্র জানায় আসলে তখন কোনো চাঁদাবাজীর ঘটনাই ঘটেনি। বাস্তবে এই ঘটনায় চাঁদাবাজি করেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নিজে। তিনিই অতি উৎসাহী হয়ে কোনো রকম তদন্ত না করেই জয়নালের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটিকে ২০ লাখ টাকার একটি চাঁদাবাজির মামলায় রুপান্তর করেন এবং জয়নালকে গ্রেফতার করেন। মামলার বাদী রহমতুল্লাহ ফারুক মামলা নং ৬৮।

তাকে গ্রেফতার করেই তার কাছে এসপি হারুন এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আরো মামলার হুমকি দেয়া হয় বলে সূত্রটি জানায়। কিন্তু জয়নাল এতো টাকা পুলিশ সুপারকে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে আরো মামলার হুমকি দেয়া হয়। পরে জয়নাল পুলিশ সুপারকে বিশ লাখ টাকা দিতে রাজী হন। কিন্তু তাতেও এসপি হারুন সম্মত হননি। এরই মাঝে ৩০ এপ্রিল জয়নালের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির আরো একটি মামলা গ্রহন করা হয়। মামলার বাদী আহমেদ জুবায়ের মামলা নং ৭৮। আরেকটি মামলার বাদী আখলাকুল হাসান সিনিয়র ল্যান্ড অফিসার ফিকর নিট ওয়্যার লিঃ ফতুল্লা মডেল থানা মামলা নং ৯০ তারিখ ২৭/৮/২০১৯। ফৌজদারী মিস নং ৫৬১০/১৯। এই মামলায় টাকা উল্লেখ করেছেন ২ কোটি টাকা। আর এসব মামলা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জের সংবাদ মাধ্যমগুলিতে ফলাও করে প্রচার হতে থাকে।
বেপরোয়া পুলিশ সুপার হারুন এই জয়নালের কাছ থেকে এক কোটি টাকা আদায়ে বদ্ধপরিকর থাকেন এবং তাকে আদালতে তার রিমান্ডের আবেদন করেন। এরই মাঝে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করার ভয়ে জয়নালের পারিবারিক সদস্যরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেন। এক পর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এসপি হারুনকে দেয়া হয় ৫০ লাখ টাকা। এরপরই বিতর্কিত হারুন জয়নালের ব্যাপারে নমনীয় হন এবং নতুন মামলা দেয়া থেকে নিবৃত হন। রিমান্ড থেকেও রেহাই দেয়া হয় আল জয়নালকে। পরবর্তিতে পুলিশের সঙ্গে আপোষ মীমাংসার পর য় জামিনে মুক্তি লাভ করেন আল জয়নাল।
জয়নাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর আপন ভাগ্নির শশুর। জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদিরের মেয়ের শশুর। আবদুল কাদির মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি। জয়নালের বড় ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে মেয়র আইভীর ছোট বোনের মেয়ের। স্বাভাবিক কারনেই পিতাকে এই দূর্ণীতিবাজ এসপির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাকুল হয়ে উঠেন জয়নালের ছেলে। সে চাপ এসে পড়ে শশুরালয়ে। বার বার ছুটে যান শশুর আবদুল কাদিরের কাছে। বিষয়টি শোনেন মেয়র আইভীও। ফলে বিব্রত হয়ে পড়েন মেয়র আইভী এবং আবদুল কাদির। তারা বিব্রত হয়ে পরিবারকে শুধু এই বলে শান্তনা দেন, এসপি হারুন টাকা ছাড়া কিছুই বুঝে না। এ সুযোগে হারুন শহরবাসীকে এটা বুঝাতে চান যে তিনি কোনো অপরাধীকেই ছাড় দিচ্ছেন না। হোক সে আইভী বা শামীম ওসমানের লোক যে কেউ। যদিও হারুন এই শহরে আওয়ামী লীগের বিভাজনের রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে নানা তৎপরতায় ব্যাস্ত ছিলেন। তিনি তখন নিজেকে অনেকটা শামীম ওসমান বিরোধী এবং মেয়র আইভীপন্থী হিসাবে প্রমান করার চেষ্ঠা করেন। বাস্তবে তিনি আইভী বা শামীম ওসমান কারোই ছিলেন না। তিনি ছিলেন টাকার পক্ষে। টাকা উপার্জনই ছিলো তার মূল লক্ষ্য। জয়নালকে ধরে নিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের বিষয়টি মেয়র আইভী কিভাবে নিয়েছিলেন সেটা জানা না গেলেও মেয়রের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি জানায় স্নেহের ভাগ্নি জামাই তার পিতাকে বাঁচানোর ব্যাকুলতা নিশ্চয়ই তাকেও বিব্রত করেছিলো বলেই জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ এর বিতর্কিত পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ টাকার মোহে অন্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আল-জয়নালকে ঘায়েল করতে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে তিন জনকে দিয়ে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে জানা যায়। তন্মধ্যে একটি মামলার বাদী রহমত উল্লাহ ফারুক, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা, মামলা নং ৬৮, তাং- ২৪/০৪/১৯ ইং। তিনি মামলায় আর্জিতে উল্লেখ করেছেন ২০,০০,০০০ টাকা। আরেকটি মামলার বাদী আহমেদ জুবায়ের, সদর মডেল থানা, মামলা নং ৭৮, তাং- ৩০/০৪/১৯ ইং। তিনি মামলায় আর্জিতে উল্লেখ করেছে ২৫,০০,০০০ টাকা। অন্য আরেকটি মামলার বাদি আখলাকুল হাসান, ল্যান্ড অফিসার ফকির নিটওয়্যারস লিঃ, ফতুল্লাহ মডেল থানা, মামলা নং ৯০, তাং- ২৭/০৮/১৯ ইং ও ফৌজদারী মিজ নং ৫৬১০/১৯ । তিনি অভিযোগ করেছে ২ কোটি টাকা। যাহা আদৌ সত্য নয় বলে জনিয়েছেন আল-জয়নাল গ্রুপের প্রতিনিধি আব্দুল কাদির। তিনি আরও জানান, আল- জয়নাল গ্রুপের জায়গা রা করার উদ্দেশ্যে আমি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ করি। তাহা আমলে না নিয়ে এসপির ইশারায় ফতুল্লা থানা পুলিশ ফকির গ্রুপের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাটি গ্রহন করেন।

Please follow and like us: