ছাত্রলীগের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করুন: কমিউনিস্ট পার্টি

রুদ্রবার্তা২৪.কম: ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল ও বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টি।
শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে শহীদ মিনারে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, বিমল কান্তি দাস, আব্দুল হাই শরীফ, শাহানারা বেগম ও ইকবাল হোসেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দরা বলেন, জনগণের ভোটাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘নৈশকালীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ লুটপাটের মহোৎসব করছে। জনগণের ক্ষোভকে দমন করতে সরকার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সরকার জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের স্বার্থে চুক্তি করেছে। এর আগেও ভারতকে একতরফা সুবিধা দেয়া হয়েছে। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বছরের পর বছর বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ ফেনী নদীর পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তি করা হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃক ভারতে এলপিজি রপ্তানির বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং দেশের স্বার্থের জন্য আত্মঘাতী ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বাংলাদেশের সমুদ্র উপক‚লে ভারতের ২০টি রাডার বসানের যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের শাসক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করছে। জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে।
নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, জনগণের ক্ষোভকে দমন করতে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকার জনগণের ওপর নানাভাবে আক্রমণ করছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাÐের ভেতর দিয়ে সরকারি দলের ফ্যাসিবাদী আক্রমণের দানবীয় রূটি আবারও ফুটে উঠেছে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো হত্যাকাÐ নয়, এটি সরকারি দলের নির্মমতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। বর্তমান ত্রাসের রাজত্বে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও নির্মমভাবে আক্রান্ত। সরকারি ছাত্র সংগঠনের ফ্যাসিবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে সারাদেশে ছাত্রসমাজ আজ সোচ্চার। প্রবল আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী হামলার জবাব দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজ খুনী ছাত্রলীগকে প্রতিহত করবে।
তারা আরও বলেন, সা¤প্রতিক সময়ে ক্যাসিনো-বাণিজ্য, ক্রাইম সিন্ডিকেট ও লুটেরা চক্রের ভয়াবহ রূপটি প্রকাশ্যে এসেছে। প্রকাশ্যে এসেছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, লুটপাট, ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়টি। জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সরকার লুটেরা-মাফিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। লুটপাট আর ত্রাসের রাজত্ব আর চলতে পারে না। কর্তৃত্ববাদী সরকারকে হঠাতে, গণতন্ত্র বাঁচাতে সর্বাত্মক লড়াই গড়ে তুলতে হবে।

Please follow and like us: