সন্ত্রাসী হামলায় কবি মিতা প্রধান ও তার স্বামী তাজুল গুরুতর আহত ॥ আটক দুই

রুদ্রবার্তা২৪.কম: পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কবি মিতা প্রধান ও তার স্বামী তাজুল ইসলাম খন্দকার। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বন্দর থানাধীন মদনপুর দেওয়ানবাগ এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং এজাহার ভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর আসামীদের পুলিশ জেল হাজতে প্রেরণ করে। অন্যদিকে আসামীদের আত্মীয়-স্বজন ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য কবি মিতা প্রধান ও তার স্বামীকে হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ভুক্তভুগি পরিবারটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনপুরের দেওয়ানবাগ খন্দকার বাড়ীর বউ কবি মিতা প্রধান (৪০) কে প্রায় সময় ভয়ভীতি সহ হুমকী দিয়ে আসছিল নুরুল আমিন খন্দকার, মোনাজাত খন্দকার সহ আরও কয়েকজন। পারিবারিক ও সম্পত্তি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টায় গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় নুরুল আমিন, মোনাজাত খন্দকার, জারিন, কুলসুম, তাইফুন নাহার মুক্তিসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাজুল ইসলাম খন্দকারের বসত বাড়ীতে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। এসময় তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কবি মিতা প্রধান তাদের বাধা দিলে আসামীরা ক্ষীপ্ত হয়ে তাদের হাতে থাকা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথারি ভাবে পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা যখম করে। এক পর্যায়ে নুরুল আমিন খন্দকারের হাতে থাকা লোহার রড দিয়া তাজুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার মাঝখানে বারি মারলে গুরুতর ফাটা রক্তাক্ত যখম এবং মোনাজত খন্দকারের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে মাথার সামনের সাইডে কোপ মেরে রক্তাক্ত যখম করে। অন্যদিকে তাইফুর নাহার মুক্তির হাতে থাকা লোহার পাইপ দিয়ে কবি মিতা প্রধানকে মাথার মাঝখানে বারি মারলে গুরুতর যখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় জারিন ও কুলসুম মিতা প্রধানকে এলোপাথারি ভাবে কিলু-ঘুষি মেরে শরীরের কাপড় টানা হেচরা করে শ্লীলতাহানী করে। আহতদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে আসামীরা পরবর্তীতে খুন করার হুমকী দিয়ে পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, বাড়ী-ঘর ও আসবাবপত্র ভাংচুরের সময় প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতিসহ নগদ ৮ লক্ষ টাকা ও দুটি স্বর্ণের গহনা সেট যার ওজন প্রায় ১১ ভরি নিয়ে যায় আসামীরা। এলাকাবাসী কবি মিতা প্রধান ও তার স্বামী তাজুলকে স্থানীয় উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তীতে অবস্থা বেগতিক দেখে আহতদের মদনপুর আল-বারাকা হাসপালাতে চিকিৎসাধীন আছে। উপরোক্ত ঘটনায় ভুক্তভুগি তাজুল ইসলাম খন্দকার ৫ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১(৯)১৯। বন্দর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসামী নুরুল আমিন খন্দকার ও মোনাজাত খন্দকারকে রাতেই গ্রেফতার করে ৯ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জামিন না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

Please follow and like us: