সোনারগাঁয়ে নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা দেয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিন্দা ও প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অযোগ্য ও দায়িত্ব অবহেলার কারনে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতে স্কুলের পুরাতন ঘর বিক্রির টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল। এ ঘটনায় এলাকাবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। গতকাল রোববার বিকেলে নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার, সহকারী শিক্ষক শিউলি রানী দাস, খলিলুর রহমান, হানজালা শাহ্ চিশতী, খায়রুল আলম খোকন, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য লোকমান হেকিম, বারদী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও দাতা সদস্য ওসমান(মেম্বার), অভিভাবক সদস্য জাকারিয়া ভূঁইয়া, বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হাসেম একজন সৎ ও যোগ্য লোক। তার মত একজন দানবীর লোক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে দরকার আছে। বিদ্যালয়ে যেকোন সমস্যা হলে আমরা সবসময় তাকে পাশে পাই। ছাত্র-ছাত্রীদের পোষাক, যে সকল শিক্ষার্থীরা দুর-দুরান্ত থেকে আসে তাদের যাতায়াত ভাড়া পর্যন্ত তিনি দিয়ে থাকেন। অযোগ্য একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সড়িয়ে দেয়ায় সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার বলেন, নুনেরটেক উচচ বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হাসেম সাহেবের মতো লোক হয়না। বিদ্যালয়ের স্বার্থে তার মতো একজন বিচক্ষন লোকের দরকার আছে।
সরেজমিনে ওই স্কুলের হিসাব বিভাগে গিয়ে জানা যায়, নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হাসেমের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১৪টি খাতে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ঋণ নেয় বিদ্যালয় কমিটি। এ ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য একটি রেজুলেশন করা হয়। ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল কমিটির সভায় পুরাতন একটি টিনের তৈরি স্কুল ঘর ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে তার ঋণের ২৫ হাজার টাকা তাকে ফেরত দেয়া হয়। এছাড়াও খরচের ভাউচারে সভাপতি আবুল হাসেম ও হিসাব সহকারী হানজালা চিশতীর স্বাক্ষর থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালালের কোন স্বাক্ষর দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য জাকারিয়া ভূঁইয়া জানান, স্কুলের জুনিয়র শিক্ষক শাহজালাল সিনিয়র এক শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহন করেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি দল স্কুল পরিদর্শনে এসে সিনিয়র শিক্ষক শামীমাকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে যান। আমরা ওই নির্দেশ অনুয়ায়ী সিনিয়র শিক্ষক শামীমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে একটি প্রধান শিক্ষকের পদ পূরনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার একদিন আগে শাহজালাল এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরামর্শে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে সভাপতি আবুল হাসেম স্কুল ঘরের টাকা আত্মসাত করেনি। তাকে আমরা রেজুলেশন করে তার ঋণের টাকা পরিশোধ করেছি।
হিসাব সহকারী হানজালা চিশতী জানান, ঘর বিক্রির ২৫ হাজার টাকা পেয়ে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে সভাপতি আবুল হাসেমকে তার ঋণের টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে আত্মসাতের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সভাপতি আবুল হাসেম শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময় অনুদানও দিয়ে থাকেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার বলেন, এ বিদ্যালয়ে আমি সিনিয়র শিক্ষক। জুনিয়র শিক্ষক শাহজালাল রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজে প্রধান শিক্ষকের পদ আঁকড়ে রেখেছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি পরিদর্শক দল এসে আমাকে প্রধান শিক্ষক করার নির্দেশ দেন। পরে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতি আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেছে শাহজালাল।
বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হাসেম জানান, আমি ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে সভাপতির দায়িত্ব পদ গ্রহন করি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। এছাড়াও স্কুলের টাকার প্রয়োজনে আমি স্কুলকে দেড় লক্ষাধিক টাকা ঋণ হিসেবে দেই। এ টাকা ভাউচারের মাধ্যমে বিভিন্ন খরচে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি ও হিসাব সহকারী স্বাক্ষর দিলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল স্বাক্ষর না দিয়ে ভাউচার খালি রাখেন। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই তিনি ভাউচারে স্বাক্ষর না দিয়ে খালি রেখেছেন। বিদ্যালয়ের জন্য একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার পদ থাকবেনা চিন্তা করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে মামলার এজাহারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল উল্লেখ করেন, নুনেরটেক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল হাসেম, যিনি ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল মাসে কমিটির সভায় পুরাতন একটি টিনের তৈরি স্কুল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সভাপতির মামা ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ওসমান গনির নিকট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। স্কুল বিক্রি করার টাকা বিদ্যালয়ের নামে খোলা ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে তিনি তা আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় কমিটির সভাপতি আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে মামলা দায়ের করেন শাহজালাল। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সোনারগাঁ থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

Please follow and like us: