স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, উল্টো হুমকিতে নিরাপত্তাহীন ধর্ষিতার পরিবার

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী (১৪) কে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে লম্পট মহসিনের (২০) বিরুদ্ধে।

শনিবার বিকেলে মহসিন ওই ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে আবারো অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে এলাকাবাসির সন্দেহ হলে একটি ঘরে দু’জনকে আটক করে।

পরে উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের কথা চুড়ান্ত হয়। তবে রাত ১০টার দিকে বিয়ে পড়াতে কাজি এলে লম্পট মহসিন ও তার পরিবারের সদস্যরা এ বিয়ে হবেনা বলে জানায়।

ঘটনাটি ঘটেছে নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের মুক্তিনগর (নয়াআটি) এলাকার মনিরের বাড়ীতে। অভিযুক্ত মহসিন ওই এলাকার সাহাবুদ্দিনের ছেলে। সাহাবুদ্দিন ডেমরা ডিপিডিসিতে চাকরী করেন।

এদিকে বিয়ে করতে অসম্মত জানালে ওই স্কুল ছাত্রী চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তার কান্নায় উপস্থিত লোকজনের চোখে পানি এসে যায়। কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি বলে দুই বছর ধরে মহসিন আমার সাথে প্রেম করে আসছে।

ভালবেসে তাকে সব দিয়েছি। সে আমাকে বিয়ে করার কথা বলে প্রতারনা করেছে। আমরা গরিব বলে সমাজে আমাদের দাম নেই। আমি আতœহত্যা করবো। এ জীবন নিয়ে বাঁচতে চাই না।

অপরদিকে এলাকাবাসির কাছ থেকে মহসিনকে ছাড়িয়ে নিতে নাসিক ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালালের বাদলের সন্ত্রাসীরা একাধিকবার চেষ্টা চালায়। এতেও ব্যার্থ হলে কাউন্সিলর বাদল নিজেই খবর পাঠান বিষয়টি তিনি মিমাংসা করে দিবেন।

এ নিয়ে এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই বাদশা ফোর্স নিয়ে এসে অভিযুক্ত ধর্ষক মহসিন ও ধর্ষিতা ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত মহসিনের বাবা সাহাবুদ্দিন এলাকাবাসিকে বলেন, এ মেয়ের কাছে আমার ছেলেকে বিয়ে দিবোনা। আমি অনেক উচ্চ শ্রেনির সাথে চলি। এতো নিন্ম ও গরিব ফ্যামিলির সাথে আমাদের সম্পর্ক করা যায় না। আমার ছেলেকে পুলিশে নিয়ে যাক আমি জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবো। টাকা হলেই সব সম্ভব।

বিষয়টি জানতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুককে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন দিলে তিনি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মহসসিনকে রাতেই আটক করা হয়েছে। স্কুল ছাত্রীর পিতা থানায় এসেছেন অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু থানায় নেয়ার পর ওসি ধর্ষিতার পরিবারের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন ধর্ষিতার বাবা ইমান আলী।
তিনি বলেন, ওসি স্যার আমাদের কোন কথা শুনতে চাননি। উল্টো নানা ধরনের আপত্তিকর কথা বলে তাড়িয়ে দিয়েছেন।

এখন একদিকে পুলিশের অসহযোগিতা অন্যদিকে স্থানীয়দের সন্ত্রাসীদের হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। তাছাড়া বাড়িওয়ালাও আমাদের বাড়িতে রাখতে সংকোচ করছে । আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইবো?

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক থানার ভেতর ধর্ষিতার পরিবারের সাথে দুর্ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে জানান, মোবাইলে ছেলে মেয়ের সাথে সম্পর্ক হয়। এর সূত্র ধরে ছেলে দেখা করতে আসলে এলাকার লোকজন তাদের আটক করে ঝামেলার সৃষ্টি করে।

এদিকে ছেলে মেয়ে দুজনই একই এলাকায় পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে বসবাস করেন, একে অপরের পরিচিত তাহলে এখানে মোবাইলে প্রেম ও দেখা করার বিষয়টি সঠিক কিনা জানতে চাইলে ওসি ফারুক প্রথমে বলেন এটা মিথ্যা কথা।

তাৎক্ষনিকই তিনি আবার বলেন, এক এলাকায় থাকে এটা আমার জানা নেই। ছেলের বাবা এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে ওই মেয়ের হাতে আংটি পরিয়ে এনগেজমেন্ট করে রাখবেন।

পরে বিয়ের ব্যবস্থা করে মেয়েকে তুলে নিবেন। এ শর্তে থানা থেকে ছেলে মেয়ের পরিবারের হাতে তাদের তুলে দেয়া হয়। এলাকায় সমস্যা হলে কিম্বা ছেলের পরিবার কোন কিছু না করলে আমি কি করতে পারি।

আপনার থানা এলাকার লোকজন কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে বললে তিনি বলেন, মেয়ের বাবাকে থানায় পাঠিয়ে দেন আমি ব্যবস্থা নিবো।

Please follow and like us: