কাশ্মীরিদের অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ

৯ আগষ্ট শুক্রবার বাদ জুম্মা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরিদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট `শিবুমার্কেট` সংলগ্ন চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রশীদ। এসময় তিনি বলেন, ভারতবর্ষ যখন স্বাধীন হয় তখন বৃটিশ সরকার নিয়ম করে দিয়েছিল কাশ্মীর একটি স্বাতন্ত্র দেশ, এখানকার জনগণ সর্বদিক থেকে স্বাধীন। এমনকি এখানে কেউ জমিজমা ক্রয়, বহিরাগতরা নাগরিকত্বও নিতে পারবে না। কিন্তু মোদি সরকার ৩৭০ ধারা পরিবর্তন করে নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ভারতের সংবিধানের ২-এর ক-খ ধারায় উল্লেখ আছে, কোন দেশকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নিতে হলে প্রেসিডেন্ট অর্ডিনেন্স জারি করবে, এবং কাশ্মীরের জনগণের মতামত নিবে। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে বিশেষ অতিথির আলোচনা রাখেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শাহ আলম কাঁচপুরী।
তিনি বলেন, কাশ্মীর সঙ্কট শুধু কাশ্মীরেরই নয়, এ সঙ্কট বাংলাদেশেরও। এজন্য বাংলাদেশের জনগণকে প্রতিবাদমুখর হতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানীরা যেভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, অনুরূপভাবে কাশ্মীরীদের অধিকারও মোদি সরকার কেড়ে নিয়েছে। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ এমনকি ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শিব্বির আহমাদ বলেন, আমরা ভারতবিরোধী নই, ভারতের নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের বিরোধী। মোদির এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বস্তরের জনগণ এবং বুদ্ধিজীবীগণ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, মোদির এই নীতি ভারতের গণতন্ত্রকে গলা কাটার শামিল এবং এতে করে ভারতই টুকরো টুকরো হবে। তিনি বলেন, মোদি মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। কাশ্মীর সাতচল্লিশের পর থেকে অগ্নিগর্ভ। বারবার রক্ত ঝরছে সাধারণ মানুষের। কাশ্মীরের আপামর জনতার মতামতকে উপেক্ষা করে ভারতের সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন- কাশ্মীরের মুসলিম রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার, গৃহবন্দি, সৈন্য সমাবেশের মাধ্যমে কাশ্মীরে মারাত্মক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার চরম হুমকির মুখে। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রশীদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইশা ছাত্র আন্দোলন সহ সকল সহযোগী সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। পরে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পরে সমাপ্ত করা হয়।

Please follow and like us: