বামদের ডাকা হরতালে প্রভাব পড়েনি জনজীবনে

 

রুদ্রবার্তা ২৪ঃ গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকা রোববার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অর্ধবেলা হরতাল জনজীবনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। নিত্যদিনের মতো রোববারও সাধারণ মানুষের সকাল শুরু হয়েছে কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকামুখী সকল প্রকার গণপরিবহন নিত্যদিনের মতোই চলাচল করেছে। এছাড়া শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কে অন্যান্য দিনের মতো রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের আনাগোনা ছিল ¯^াভাবিক।

নারায়ণগঞ্জ রেল ষ্টেশন থেকে যথারীতি চলেছে ঢাকাগামী ট্রেন, যাত্রী নিয়ে ফিরেছে ঢাকা থেকে। নৌ চলাচলও ছিল ¯^াভাবিক। স্কুল, কলেজ, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল যথারীতি।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে বাম দলগুলোর অর্ধবেলা হরতাল শুরু হয়। সকাল থেকেই রাজপথ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে হরতাল সমর্থনকারীরা। তবে শহরে পুলিশের বাঁধার মুখে তারা তা করতে পারেনি। তবে দুয়েক জায়গায় ইজিবাইক ভাঙচুর, টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায় হরতাল সমর্থকরা।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারাদেশে আধাবেলা হরতালের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলনসহ বাম সংগঠনগুলো। সকাল ৬টায় শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকা থেকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ব্যানারে মিছিল বের করা হয়। মিছিলে কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বাম মোর্চার বিভিন্ন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। অন্যদিকে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়। চাষাড়সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিল পুলিশের জলকামান, সাঁজোয়া যান।

হরতাল প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের জেলা সমš^য়কারী ও জেলা সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমাদের হরতালের আহŸান। আমরা মনে করি, যারা গ্যাস ব্যবহার করে কিংবা করে না সবাই আমাদের এই হরতালকে নৈতিকভাবে সমর্থন করেছে। হরতাল পালন করতে গিয়ে সবাই রাজপথে নামতে পারে না এবং নামেও না। কিন্তু সকলেরই এই হরতালের প্রতি সমর্থন আছে। আমরা মাঠে ছিলাম, কোথাও কোথাও হরতাল হয়েছে, কোথাও আবার হয় নাই। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপির মতো বলবো না যে, হরতাল সফল হয়েছে কিন্তু আমরা বলবো, আমরা যে উদ্দেশ্যে হরতালের ডাক দিয়েছিলাম তাতে সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল।’

জেলা বাসদের সমš^য়কারী নিখিল দাস বলেন,‘ হরতালে জনগণের সমর্থন ছিল। আমরাও রাজপথে ছিলাম। আমরা তো আর ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও করিনি। ¯^তঃস্ফুর্তভাবে মানুষকে হরতালের আহŸান জানিয়েছি।’

জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমš^য়কারী তরিকুল সুজন বলেন, ‘এই হরতাল যৌক্তিক। এই হরতালে মানুষের অংশগ্রহন তুলনামূলকভাবে কম কারণ মানুষজন এই সরকারের বিরুদ্ধে হরতালে নামতে, আন্দোলনে নামতে ভয় পান। কারণ এই সরকারের বিরুদ্ধে নামলে তারা মানুষকে হয়রানি করেন, হামলা করেন, বাসা-বাড়িতে তল্লাশী করেন। তাছাড়া সরকারি যেসব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আছে তারাও বিভিন্ন সময়ে সমাবেশে গিয়ে ছবি ধারণ করেন। অর্থাৎ পুরো দেশের মধ্যে একটি ভয়ভীতিকর অবস্থা তৈরি করে কার্যত সরকার জনগণের কর্মসূচি থেকে জনগণকে বিচ্ছিন্ন করলো।’

Please follow and like us: