র‌্যাব-১১ এর অভিযানে চাঞ্চল্যকর “সাবিনা আক্তার’ ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ধর্ষক সাইফুল গ্রেফতার

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন-শৃক্সখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা ও ধর্ষণের মত মানবতা বিধ্বংসী অপরাধ সমাজে মহামারী আকার ধারণ করেছে। উক্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

 

গত ০৮ জুন ২০১৯ তারিখ নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন মাছিমপুর গ্রামের মোসাঃ সাবিনা আক্তার(২১) নামের এক মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারী ভিকটিমকে হত্যা করার পর ধর্ষণ করে শিবপুরের কাজিরচর পূর্বপাড়া সাকিনস্থ জনৈক নাছিম উদ্দিনের কলাবাগানের ভিতর লাশ গোপন করে রাখে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মাতা আফিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়াতে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হলে উক্ত এলাকাসহ দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করাসহ উক্ত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীকে গ্রেফতারের নিমিত্তে অভিযান পরিচালনা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন, পিপিএম, এর নেতৃত্বে ও সঙ্গীয় অফিসার এএসপি শাহ মোঃ মশিউর রহমান, পিপিএম এর সহযোগীতায়

চাঞ্চল্যকর সাবিনা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণের রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারী গ্রেফতারের জন্য বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ ১১ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে রাত ২০৩০ ঘটিকায় নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন, কলেজ গেট এলাকা হতে আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৮), পিতা-মৃত হানিফ ফকির, মাতা- মোছাঃ গোলাপী বেগম, গ্রাম-দুলালপুর (খালপাড়), পোঃ-দুলালপুর, থানা-শিবপুর, জেলা-নরসিংদীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাইফুলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক র‌্যাবের আভিযানিক দল ও মামলার তদন্তকারী কমকর্তা ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে তার বাড়ীর বাথর“মের ভিতর থেকে ভিকটিম সাবিনার মোবাইল ও সীম উদ্ধার করা হয় এবং বাড়ির পাশের একটি নোংরা নর্দমা থেকে তার ভ্যানিটিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ভ্যানিটিব্যাগ ভিতরে সাবিনার ব্যবহৃত আয়না, চির“নি, একটি ওড়না ও অন্যান্য প্রসাধণী সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়াও হত্যায় ব্যবহৃত আসামীর পরিহিত শার্ট ও আসামীর মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৮) নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার দুলালপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। সে বিবাহিত, তার প্রথম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর সাহিনুর বেগম(২৩)কে ২য় বিবাহ করে। সেই ঘরে সাইফুলের ০৫ বছর ও ১০ মাস বয়সের ২টি    সন্তান রয়েছে। প্রায় ০৩ মাস পূর্বে শিবপুর থানাধীন ধানুয়া কারীবাড়ী মাজারে মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সাথে ভিকটিম মোছাঃ সাবিনা আক্তারের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে সাইফুল তার ২য় স্ত্রীর কথা গোপন করে সাবিনাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর প্রেক্ষিতে সাইফুল সাবিনার সাথে বিভিন্ন স্থানে মাঝে মাঝে দেখা করত। এ সময় কয়েক বার সে সাবিনাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় কিন্থু সাবিনা তাতে রাজি না হওয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ফন্দি আটে। আসলে এটা ছিল ধৃর্ত সাইফুলের সাবিনাকে ধর্ষণের ফন্দি মাত্র। তাদের এই প্রেমের সম্পর্কের কথা সাবিনা তার চাচাতো বোনকে জানায়। সাইফুল ও সাবিনা মিলে টান ছলনা গ্রামে সাবিনার চাচাতো বোনের বাসায় গিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। এর বেশকিছু দিন পর পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সাবিনা ও সাইফুল বিয়ে করার জন্য ঘটনার দিন অর্থ্যাৎ ০৬ জুন ২০১৯ তারিখ আনুমানিক ১৫৩০ ঘটিকার সময় শিবপুরে মিলিত হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক সাইফুল ভিকটিম সাবিনাকে নিয়ে সিএনজি করে শিবপুর হতে টান ছলনা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে। আনুমানিক রাত ২১৩০ ঘটিকার সময় প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি হতে নেমে পায়ে হেঁটে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কলাবাগানের ভিতর দিয়ে সাইফুল সাবিনাকে নিয়ে টান ছলনা গ্রামের দিকে যেতে থাকে। একপর্যায় কলাবাগানের ভিতর নির্জন এলাকায় সাইফুল সাবিনার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করতে চায়। তখন সাবিনা সাইফুলকে বাধা দিলে সাইফুল বল প্রয়োগ করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় ও সাবিনা উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে এবং বলতে থাকে “আমারে কই লইয়া আইছ, আমারে দিয়া আয়” তখন সাইফুল ধর্ষণের জন্য আগে থেকে গায়ের খোলা শার্ট দিয়ে সাবিনার গলা পেঁচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে তাকে শ¡াসর“দ্ধ করে হত্যা করে। হত্যার পর সাইফুল মৃত সাবিনাকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে। সে সাবিনার বিবস্ত্র লাশ রেখে মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ নিয়ে তার নিজ বাড়িতে চলে যায়। সাইফুল মোবাইলটি বন্ধ করে বাড়ির বাথর“মের ভিতরে ও ভ্যানিটিব্যাগ বাড়ির পাশে একটি নোংরা নর্দমায় ফেলে দেয়। ঘটনার পর হতে সাইফুল আতœগোপন করে। ঘটনার পরের ২য় দিন ০৮ জুন ২০১৯ তারিখে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানা যায় যে, নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন কাজিরচর পূর্বপাড়া সাকিনস্থ জনৈক নাছিম উদ্দিনের কলাবাগানের ভিতর অজ্ঞাতনামা একজন মেয়ের বিবস্ত্র লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, ভিকটিম সাবিনা আক্তারকে শ¡াসরোধ করে হত্যা ও ধর্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে শিবপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুর“তহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। উক্ত বিষয়ে নিহতের মা আফিয়া আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং-০৮, তারিখ ০৯/০৬/২০১৯, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দঃবিঃ। বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল দ্র“ত ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ সহ উক্ত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্ত সন্ধিগ্ধ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। এরই প্রেক্ষিতে চাঞ্চল্যকর সাবিনা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণকারী আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৮)কে ১১ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে রাত ২০৩০ ঘটিকায় নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন কলেজ গেট এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে নরসিংদীর শিবপুর থানায় হস্তান্তর এবং আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 

 

Please follow and like us: