খুন জঙ্গিবাদে উদ্বিগ্ন তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় কলেজে ভর্তি হলেও জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে কখনো সহপাঠী গ্রেফতার, আবার নিখোঁজের পর কোন সহাপাঠীর খুন হওয়ার ঘটনায় এখন বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম বিশ^বিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীরা।
কেউ অভিভাবকের কষ্টার্জিত অর্থে, কেউবা নিজের পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থে কলেজে লেখাপড়া করলেও সহপাঠীদের এমন নির্মম পরিনতির কারনে এখন নিজেদের মনের এক ধরনের শংকা বিরাজ করছে বলে জানান, তোলারাম কলেজের অর্নাস পড়–য়া একাধিক শিক্ষার্থী।
তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে কলেজে সচেতনতা মূলক তেমন কোন কর্মসূচী পালিত হয় না। শুধুমাত্র সরকারি ভাবে কোন নির্দেশনা পেলেই কেবল অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা হয়। যেখানে সকল শিক্ষার্থীদের স্থান দেয়াও সম্ভব হয় না। তাই মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা যদি জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হতে পারতো তাহলে লেখাপড়া করে শিক্ষার্থীরা আর জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নিজের ভবিষ্যতকে নি:শেষ করে দিত না।
জানাগেছে, ৩০ আগস্ট রাতে গাজীপুর জেলার সদর থানাধীন করমতলা এলাকায় র‌্যাব-১১’র অভিযানে গ্রেফতার হয় তোলারাম কলেজের ছাত্র নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সারোয়ার তামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ইসমাইল হোসেন ওরফে শামীম আতর আলী (২৩)।
ইসমাইল হোসেন ২০১৩ সাল হতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে দর্শন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।
২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান হয়ে সিরিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার নিজ বাড়ী থেকে স্বামী আমিনুল ইসলামসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন নব্য জেএমবির সদস্য নাহিদ সুলতানা। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদা সুলতানা জানান, নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
তারপূর্বে গত বছর গুলশান হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর র‌্যাব জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৬১ জন শিক্ষার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। যার মধ্যে ছিল নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র ইয়াসিন হোসেন (চঞ্চল)।
অপরদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টায় সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও যুগের চিন্তা ২৪ কম এর শিক্ষানবিশ সংবাদকর্মী শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র নিখোঁজ হন। এর ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফতুল্লা থানাধীন ভুঁইগড় এলাকায় অজ্ঞাত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। তারপর ১০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা সেই লাশের জুতা শার্ট ও আনুসাঙ্গিক শুভ্রকে সনাক্ত করে।
এরপর শুভ্র হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেফতার দাবীতে বিক্ষোভ করে তার সহপাঠীরা। এমন নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ হত্যার বিচার হবে কিনা জানি না। কিন্তু এ শহরের মধ্যে যেভাবে লাশের মিছিল দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, তাতে প্রমাণ হচ্ছে আমরা কতটুকু অসহায়। তবে আমরা অসহায়ের মত বসে থাকবো না। যতদিন পর্যন্ত শুভ্র হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে, ছাত্র খুনসহ শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাওয়ার পরেও নীরব ভূমিকা পালন করায় সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছে সাধারন শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রশ্ন ছাত্র-ছাত্রী সংসদ তবে কি শুধুই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করার জন্য, নাকি প্রকৃতপক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে গঠিত?
এব্যাপারে জানতে সরকারি তোলারাম বিশ^বিদ্যালয় কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি মো: হাবিবুর রহমান রিয়াদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Please follow and like us: