সিলেটে শ্রমিক লীগের শেল্টারে আন্দোলনে হকাররা!

রুদ্রবার্তা২৪.কম: আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত জুন মাসের প্রথম দিকে ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদের পর চেহারা অনেকটাই পাল্টে যায় বিভাগীয় নগরী সিলেটের। ফলে হাঁটা-চলার জন্য নির্মিত ফুটপাত হয়েছিল দখলমুক্ত। কমেছিল যানজটও। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের আগের অবস্থায় চলে গেছে নগরী।
তবে ফুটপাতে হকার না বসলেও এখন তারা বসছেন প্রধান সড়কে। এক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলী হয়েছেন তারা। ভ্যানগাড়িতে করে সড়কের দুই পাশেই তৈজস পত্রের পসরা সাজিয়ে অবস্থান করছে হকাররা। ফলে সড়কের প্রশস্ততা করে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজটের।
এ ব্যাপারে দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। আর এসবের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতার হাত রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তাছাড়া পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন এই সিন্ডিকেটে এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে এবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আল্টিমেটাম দিয়েছে হকাররা। ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করার প্রতিবাদ এবং তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে না দিলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও করেছে। আর তাদের এসব আন্দোলনের নৈপথ্যে রয়েছে শ্রমিক লীগ।
রবিবার সিলেট সিলেট মহানগর সর্বস্তরের হকার্স ঐক্য পরিষদের ব্যানারে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন করে হকাররা। তাদের মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহরিয়ার কবীর সেলিম। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক রকিব আলীও শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে মেয়র ও প্রশাসনকে এই আল্টিমেটাম দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য সিটি সুপার মার্কেট ভেঙে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। রবিবার থেকে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভ্যানগাড়ি দিয়ে সড়ক দখল করে হকাররা ব্যবসা করছেন- বিষয়টি সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশের পর ফুটপাত থেকে হকার সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে নতুন করে কেউ দখল করে থাকলে অভিযান চালানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হকের নেতৃত্বে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে পরিচালিত অভিযানে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এনামুল হাবিবসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। এসময় সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে হকারদের তৈরি করা অস্থায়ী সেড উচ্ছেদসহ বিভিন্ন দোকানের সামনের দখলে রাখা ফুটপাতও দখলমুক্ত করা হয়।
গত ২৯ মে সিলেটের আদালত প্রাঙ্গণসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় সংলগ্ন ফুটপাতে অবৈধ দখলদার, নেপথ্যে থাকা দখলদার পক্ষের ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় সনাক্তকরণের লক্ষ্যে সিলেটের বিভিন্ন সেক্টরের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।
সোমবারের সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ দিনের মধ্যে সিলেটের আদালত প্রাঙ্গণসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় সংলগ্ন ফুটপাতে অবৈধ দখলদারদের সরে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মাইকিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
এর আগে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মে বৃহস্পতিবার সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো জনগুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন ফুটপাতে অবৈধ দখলদার, নেপথ্যে থাকা দখলদার পক্ষের ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে তা আদালতে দাখিল করতে সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কাজে সিটি কর্পোরেশনকে সহায়তা করতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

Please follow and like us: